পুলিশের হাতে নিগৃহীত সাংবাদিক,উত্তেজিত জনতার মার সিভিক ভোলেন্টিয়ারকে

1965

কোচবিহার, ২৪ অক্টোবরঃ রাজনৈতিক নেতা কিংবা পুলিশ কারও হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না সাংবাদিকরা। বারবার নিগৃহীত হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার কোচবিহার শহরের হরিশপাল চৌপথী এলাকায়। ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।  

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এদিন এক টোটোওয়ালা রোগী নিয়ে হাসপাতাল যাওয়ার পথে বিনা অনুমতিতে নো এন্ট্রি বাজারের রাস্তায়  ঢুকে পড়ে। তা দেখে টোটোওয়ালাকে আটকায় কর্তব্যরত সিভিক ভোলেন্টিয়ার। তারপরই ওই টোটো ওয়ালার সাথে বচসায় জড়িয়ে পরে কর্তব্যরত সিভিক ভোলেন্টিয়ার। এরপরই স্থানীয়রা ওই কর্তব্যরত সিভিক ভোলেন্টিয়ারকে মারতে যায়।

সেই ঘটনার খবর পেয়ে খবর করতে ঘটনাস্থলে গেলে কোচবিহারের বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের উপরেরও চড়াও হয় ওই কর্তব্যরত সিভিক ভোলেন্টিয়ার পুলিশ ও পুলিশ আধিকারিকেরা। ঘটনায় ভিড় জমতে শুরু করে স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অভিযোগ, এক সিভিক ভলেন্টিয়ার ওই টোটো চালককে আটক করেন এবং টোটোর জামা কাপড় টান দিয়ে ছিড়ে ফেলেন। এখান থেকেই শুরু হয় বচসা এই অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে টোটো চালক সিভিক ভলেন্টিয়ারকে মারধর করে বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, এরপর সেই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সিভিক ভলেন্টিয়ারের হাতে নিগ্রহ হন এক ইলেক্টনিক মিডিয়ার ফটোগ্রাফার শুভ দাস। অভিযোগ, তাঁকেও গালাগালি করে লাথি মারেন ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার। চোখের সামনে এই ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েন অন্যান্য সাংবাদিকরা। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কোচবিহার কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরে তাঁরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কোচবিহার প্রেস ক্লাবের পক্ষে সাংবাদিক গৌরহরি দাস বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের পেশার মধ্যে সব সময় বন্ধুত্বপুর্ন হওয়া দরকার। আমরা সব সময় পুলিশে সম্মান করি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে পুলিশ আমাদেরকে সম্মান তো দূরের কথা বারবার নানা ভাবে হেনস্থা করছে। যেমন দুর্গাপুজার সময় জেলা প্রশাসন থেকে পাশ দিয়েছে তা নিয়ে দিনহাটায় গিয়েছে আমাদের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের দেওয়া দুর্গাপুজার পাশ পুলিশেই ছিড়ে ফেলে দেয় এবং নানান ভাবে হেনস্থা করে সাংবাদিকদের। আজ কোচবিহার শহরের হরিশপাল চৌপথী এলাকায় সাংবাদিকদেরকে যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে  এটা আমরা পুলিশের কাছ থেকে আশা করি না। পুলিশ যেন আমাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখে এই আশাই রাখি আমরা সাংবাদিকরা।