বন্ধ মুজনাই চা বাগান, কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পুরুষরা

16

নিজস্ব প্রতিনিধি,আলিপুরদুয়ার: লোকসভা নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা চা বাগানে আসেন। তারপর তারা ভুঁড়ি ভুঁড়ি প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট মিটে গেলে এখন তাঁদের কারও দেখা মিলছে না। প্রায় দশ মাস ধরে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের মুজনাই চা বাগান বন্ধ। পেটের টানে ভিন রাজ‍্যে পাড়ি দিয়েছে বহু শ্রমিক। কার্যত পুরুষ শ্রমিক শূন‍্য হয়ে পড়েছে মুজনাই চা বাগান।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বন্ধ মুজনাই চা বাগান। পেটের তাগিদে বহু শ্রমিক ইতিমধ্যে ভিন রাজ‍্যে পাড়ি দিয়েছে বিশেষত বাগান এলাকা এখন বলা চলে পুরুষ শূন‍্য। আর যারা বাগানে রয়েছেন তারা বাগান খুলবে এই আশা নিয়ে বাগান ছেড়ে যায় নি তারা কোনোক্রমে আধপেটা খেয়ে দিনযাপন করছে। সংশ্লিষ্ট বাগানের বহু ছাত্র ইতিমধ্যে অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ করে কাজের সন্ধানে বাইরে পাড়ি দিয়েছে।

মুজনাই চা বাগানের শ্রমিক সোহানি উরাও জানান,”আমার খেতে পাচ্ছি না, বর্তমান এই অবস্থা আমাদের। দু বেলা খাবার জুটছে না পূজা নিয়ে কি হবে। শ্রমিকদের একটাই দাবি শীঘ্র খুলুক বাগান।”

জানা গেছে, মুজনাই চা বাগানের ৯৯৯ জন শ্রমিক-কর্মচারী সংখ্যা। ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল মুজনাই চা বাগান। ফের ২০১১ সালের মে মাসে খোলে বাগানটি। এরপর ফের ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ বন্ধ হয়ে যায় বাগানটি। বাগান কর্তৃপক্ষের দেওয়া নোটিশে অবশ্য শ্রমিকদের অসযোগিতা কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছিল।  

ওই এলাকার যুবক সমীর দে জানান, “আমার পেটের দায়ে কেরালা যাচ্ছি। মুজনাই বাগান বন্ধ কোন রোজগার নেই আসে পাশেও কোন রোজগার নেই কি করবো তাই কেরালা তে যাই।” পেটের দায়ে পড়া শুনা ছেড়ে কেরালার পথ বেছে নিয়েছেন এই যুবক।

শরতের সাদা কাশফুলে দোলা। এই দোল যে উৎসবের সুর দিয়ে জানান দেয়। শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী গান। ‘উমা’ আসবেন পৃথিবীতে বাবার বাড়িতে। তাই তো প্রকৃতির এ আয়োজন। বাঙালি হিন্দুরা আবেগ, উচ্ছ্বাস আর ধর্মীয় রীতিতে পূজা করেন তাদের এই প্রাণের দেবীকে। তাই শারদীয় দুর্গোৎসবে মেতেছে বাঙালি হিন্দুরা। উৎসবের এই আলোর রোশনাই ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। তবে সেই আলো পড়বে কি মুজনাই চা-বাগানের শ্রমিক মহল্লায় প্রশ্ন টা থেকেই যায়! বন্ধ বাগান শীঘ্রই খুলবে, এই আশায় পথ চেয়ে মুজনাই চা বাগানের শ্রমিকরা।