সীমান্তে বিএসএফ-এর এক্তিয়ার বাড়ায় উদ্বেগ ছয়টি জেলায়

680

ওয়েব ডেস্ক, ১৯ অক্টোবরঃ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স অর্থাত্ বিএসএফ-এর এক্তিয়ারে আরও বেশি এলাকা থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ভারতীয় সীমানার ভিতরে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা এত দিন এই কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর নজরদারির আওতায় ছিল, সেটিই বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে মুর্শিদাবাদে এবং উত্তরবঙ্গের বেশ খানিকটা এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত জুড়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের ছ’টি জেলা।মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার ও শিলিগুড়ি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে মোট ৫২টি থানার আওতাধীন এলাকা বিএসএফের নিয়ন্ত্রণে ঢুকে পড়বে। জানা গেছে, কোচবিহার এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের সমস্ত থানার অধীনেই ঢুকে পড়বে বিএসএফ, কারণ সব থানাই সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে আসে। একই ভাবে শিলিগুড়ি মহকুমার সমস্ত থানাও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত।

মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরের চিত্রও প্রায় একইরকম। মালদার ১৪টি থানার মধ্যে ৯টি এবং উত্তর দিনাজপুরের ৯টি থানার মধ্যে ৮টিই বিএসএফের এক্তিয়ারে চলে যাবে। আবার গঙ্গার অপর পারে অর্থাত্ মুর্শিদাবাদেও ২৮টি থানার মধ্যে ২১টিই বিএসএফের অধীনে চলে যাবে। এতদিন আটটি থানা এলাকায় প্রবেশ করতে পারত বিএসএফ। এর ফলে সাধারণ মানুষের উপর নজরদারির অস্বস্তি তো বটেই, সেই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

উত্তরবঙ্গ বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আয়ুষ তিব্রেওয়াল বলেন, ‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। তাতে তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে এই বিষয়টি নিয়ে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলেন।’ তাঁর কথায়, ‘আমাদের উদ্বেগ ও আশঙ্কা, স্থানীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। কারণ এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শিলিগুড়ির সমস্ত বড়বড় বাজার বিএসএফের অধীনে চলে আসবে।’ একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিএসএফের বেশিরভাগ সেনাই স্থানীয় মানুষের কথ্য ভাষাই বোঝেন না। তৃণমূল নেতৃত্বের তরফেও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়েছে।

কোচবিহারের দিনহাটায় ফিরহাদ হাকিম এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা শুনেছি বাংলার ঘরে যদি কোনও বাচ্চা রাতে না ঘুমিয়ে দুষ্টুমি করে, তাকে ভয় দেখানো হয় না ঘুমোলে গব্বর এসে যাবে! এখন হয়তো মায়েরা বলবে, না ঘুমোলে মোদীর বিএসএফ এসে যাবে।’

বিজেপির তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত সীমান্তে অপরাধ দমন করবে আরও বেশি। তৃণমূল অহেতুক রাজনীতি করছে। মালদহের বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি অজয় গাঙ্গুলি বলেন, ‘এই নিয়ে অন্য কোনও রাজ্যে কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু একমাত্র বাংলায় তৃণমূল এটি নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’