রান্নার প্রতিযোগিতার জমজমাট আসর পূর্ব মেদিনীপুরে

49

প্রসেনজিৎ রায়, পূর্ব মেদিনীপুর: অন্ন চিন্তা চমৎকারা! রান্না বাংলায় একটি প্রাচীন প্রথা। এক সময়ে গৃহবধূও নির্বাচিত হতেন তাঁর হাতের রান্নার গুন দেখে। খাদ্য আর খাদকের সম্পর্কে রান্না একটা বড় শিল্প। আধুনিক এই সময়ে অতি আধুনিকতার সংকটে পরে এই শিল্পের প্রতি আজ তেমন ভাবে টান অনুভব করে না অনেক গৃহবধূই। কিন্তু খাদ্যকে স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় করার প্রয়াসে আজ ভাটার টান।

তবে কি রান্না সংস্কৃতি আজ লুপ্ত প্রায়! ফাস্টফুড ও হোটেলের ওপর নির্ভর হয়ে পরবে আম জনতা। কালের গতি প্রকৃতি অনেকটা সে রকমই! এই ভাবনাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার কোলাঘাটে সংকেত ও একটি রেস্টুরেন্টের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো রান্না প্রতিযোগিতা। আর এই অভিনব প্রতিযোগিতায় নানান জায়গা থেকে বিভিন্ন বয়সের শতাধিক মহিলা বাড়ি থেকে যে যার মতো রান্না করে নিয়ে এতে অংশ নেন। নানা পদে দেখা গেছে অনেক অজানা অদেখা আইটেম, যা দেখে যে কোন খাদ্যরসিক ই বিচলিত হবেন। পাঁশকুড়া কলেজের অধ্যাপিকা কেয়া সামন্ত এনেছিলেন মোচা বাহার। হাওড়া বাগনানের এক গৃহবধূ নাসিমা মল্লিকের আইটেম ছিল মুগ মশাল্লা। দেনান গ্রামের কলেজ পড়ুয়া সুচন্দ্রিমা চ্যাটার্জি বানিয়ে ছিলেন চিকেন টিক্কা। সদ্য বিবাহিত রেশমী সিনহা যত্ন করে বানিয়ে ছিলেন কুমড়োর হালুয়া। দেউলটির আটপৌরে গিন্নি হাজির হয়েছিলেন বাসমতি চালের খিচুরী নিয়ে।

এছাড়াও নানান পদে দেখা গেছে আস্ত একটা গোটা মুরগির মাশাল্লা, চিংড়ি মালাইকারি, ভেটকি ভাপা, তেলাপিয়া সাম্বল, মাসরুম ভাপা, হিচড়ের কোপ্তা, ভাপা চিংড়ি, মটরশুঁটির ধোঁকা, জালি পিঠে, মুলোর পরোটা থেকে শুক্তো মুড়ি ঘ্নটর মত  মোঘল বাদশাহী ঘরানার পাশাপাশি বাঙলার বহু প্রিয় খাদ্য পদ। স্থানাধিকারী দশজনকে নানা আকর্ষণীয় উপহারের সাথে অংশ নেওয়া সবাইকেই স্মারক উপহার দেওয়া।

আয়োজকদের পক্ষে সুদীপ্তা দাশগুপ্ত জানান, বেশীরভাগ মেয়েদের ই একইভাবে সময় কাটে রান্নাঘরে কড়া খুন্তি নিয়ে। সেই রান্না নিয়েই একটি আয়োজনে একদিন একটু করা আর তাদের সৃষ্ট রান্না শিল্পকে তুলে ধরতে ও সম্মান জানাতেই এই আয়োজন।রকমারি রান্নার গন্ধে এক অন্য পরিবেশের সৃষ্টি হয় অনুষ্ঠান অঙ্গনে।