করোনা আতঙ্কের মধ্যেও ভালোবাসার জয়,চিনের পাত্রীকে বিয়ে করলেন ভারতীয় যুবক

240

ওয়েব ডেস্ক, ৩ ফেব্রুয়ারিঃ সারা ভারত জুড়ে যেখানে করানা ভাইরাস নিয়ে তোলপাড়। চিন দেশের কর্মরত কোন মানুষ যদি ভারতের জে কোন প্রান্তে আশে। তাকে ভারতে ঢুকার আগে নানা ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু এই সব কথায় কোন কর্ণপাত না করে রীতিমত মধ্যপ্রাচ্যদেশ চিনের পাত্রিকে বিয়ে করছে ভারতের এক যুবক। এই বিয়ে আর সাতটা পাচটা বিয়ের মত নয়। এই বিয়েতেই ব্যান্ড বাজা বারাত তো ছিলই, তার পাশাপাশি ছিল পাঁচজন চিকিত্সক ও বেশকয়েকজন প্যারামেডিক্যাল স্টাফের একটি দল! ভাবছেন বিয়েতে এদের কী কাজ ? পুরোহিতের জায়গা চিকিত্সকরা কী করছেন? আসলে ছবিতে সবুজ-মেরুন লেহেঙ্গা-চোলিতে যে কনেকে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন তিনি চিনের বাসিন্দা।

করোনা আতঙ্কের মাঝেই রবিবার মধ্যপ্রদেশের ছোট্ট শহর মন্দাসুরের সত্যার্থ মিশ্রার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়লেন চিনের পাত্রী জিহাও ওয়াং। উপস্থিত ছিল জিহাওয়ের পরিবারে সদস্যরাও। তাই মধ্যপ্রদেশ স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরাও এদিনেই বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন কর্মব্যস্ত।

করোনা ভাইরাসে ইতিমধ্যেই ৩০০-র বেশি প্রাণ কেড়েছে চিনে। আক্রান্তের সংখ্যা চোদ্দ হাজার পার করেছে। আগেই করোনাভাইরাস সংক্রমণকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগ উত্পন্নকারী স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বুধবার বিয়ের জন্য মন্দাসরে হাজির হন জিহাও ওয়াং ও তাঁর পরিবার। এর পর থেকেই মধ্যপ্রদেশ স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা নিয়মিত পরীক্ষা-নীরিক্ষা করছেন তাদের।

এদিন মন্দাসুর জেলা হাসাপাতালের সিভিল সার্জন ডাঃ একে মিশ্রা জানান, পাঁচ-ছ’জন ডাক্তার এবং প্যারামেডিক্যাল স্টাফরা প্রতিদিন তাঁদের পরীক্ষা করছেন। তাঁদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনওরকম উপসর্গ দেখা যায়নি। যদি কিছু খটকা লাগে সেই মুহূর্তে তাঁদের হাসাপাতালে ভর্তি করা হবে। আমরা সব পরিস্থিতির জন্য তৈরি’।

তিনি জানান, পাত্রীপক্ষ তাদের সঙ্গে পূর্ন সহযোগিতা করছে এমনকি তাঁরা মধ্যপ্রদেশ স্বাস্থ্য দফতরের এই উদ্যোগের সাধুবাদ জানিয়েছেন।

জানা গেছে, জিহাও ওয়াং ও সত্যার্থ মিশ্রার পরিচয় পাঁচ বছর আগে কানাডায়। সেইসময়ই ওখানেই পড়াশোনা করতেন দুজনে। এরপর পাঁচবছর প্রেম সম্পর্কে থাকার পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। জিহাও-এর বাবা শিবু ওয়াং, মা জিন গুয়ান এবং অপর দুই আত্মীয় এই বিয়েতে যোগ দেন। করোনা আতঙ্কের জেরে ভিসা সমস্যা দেখা দেওয়ায় বাকি চার আত্মীয় ভারতে আসতে পারেননি। ভারতের বেশ কিছু জায়গা ঘুরে ২৯ জানুয়ারি মন্দাসুরে এসে পৌঁছায় জিহাও ও তাঁর পরিবার। চিনে ফেরার আগে ভারতের আরও বেশ কিছু জায়গা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।