করোনা ভাইরাসে রাজ্যে মৃত ১, বাংলাসহ ৫রাজ্যকে সতর্কতা কেন্দ্রের, জানুন কিভাবে প্রতিরোধ করবেন…

379

ওয়েব ডেস্ক, ২৭ জানুয়ারিঃ করোনা ভাইরাসে কলকাতায় মৃত ১, বাংলাসহ ৫ রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র।

করোনা ভাইরাসে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার। পাঁচ রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং পুলিশের ডিজির সঙ্গে কথা বলল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে পাঁচ রাজ্যকে কার্যত সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে রাজ্যগুলিকে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলির সঙ্গে কথা বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সোমবার বিকেলে যখন স্বাস্থ্য মন্ত্রক করোনা নিয়ে রাজ্যগুলির সঙ্গে কথা বলছেন তখনই শহর কলকাতায় করোনা ভাইরাসের থাবায় প্রাণ গেল এক জনের। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন করোনা ভাইরাসেই আক্রান্ত ছিলেন ওই তরুণী।

চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব দেশের প্রতিটি রাজ্যকে এর মোকাবিলায় প্রস্তুতিপর্ব সেরে রাখতে বলেছেন। বিমানবন্দর থেকে আসা যাত্রীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনওভাবে রোগ সংক্রমণ হলে বা কোনওভাবে সংক্রামিত মানুষের খোঁজ পেলে তাঁকে হাসপাতালে আলাদাভাবে রাখার (আইসোলেশন) পরিকাঠামো তৈরি করে রাখা, রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে, তার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ভেন্টিলেটর তৈরি রাখা, ভাইরাসের নজরদারি ব্যবস্থা সঠিক রাখা, যে কোনও ধরনের সংক্রমণ এড়ানোর জন্য সবদিক থেকে প্রস্তুত থাকা ইত্যাদি একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব। ইতিমধ্যেই কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের ৪৩টি বিমানের নয় হাজারেরও বেশি যাত্রীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। একজনের ক্ষেত্রেও এই ভাইরাসের সন্ধান মেলেনি।

বুধবার এ বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশ পেয়েছি। আমাদের বিশেষজ্ঞরা তা খতিয়ে দেখছেন। দ্রুত রাজ্যবাসীর জন্য গাইডলাইন তৈরি করা হবে। অজয়বাবু বলেন, রাজ্যের সবক’টি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে সতর্ক করা হয়েছে। আপাতত বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে দুটি আইসোলেশন বেড রাখা হয়েছে। যদি কারও সংক্রমণ হয়, সেখানেই রাখা হবে।

এখন প্রশ্ন হল, কেন এই ভাইরাস হু থেকে শুরু করে আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-এর মতো শীর্ষ সংস্থাগুলির মাথা ব্যথা? চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভাইরাসটির বিজ্ঞানসম্মত নাম হল ‘২০১৯-এনকোভি’। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, সামুদ্রিক প্রাণী এবং খাবার থেকে এই রোগ সংক্রমণ শুরু হয়। লক্ষণ আর পাঁচটি জ্বর-সর্দি-কাশি-নাক থেকে জল পড়ার মতোই। পাশাপাশি মাথাব্যথা, কাশি, গলা ব্যথা, অস্বস্তিভাবের মতো কিছু কিছু উপসর্গও থাকে। এছাড়া শ্বাসকষ্ট, বুকে সংক্রমণের ঘটনাও ঘটে। কিন্তু, উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চীনের হুয়ান শহরে প্রথম ছড়িয়ে পড়া আপাতনিরীহ এই ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এখনও পর্যন্ত হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। হুয়ান ফেরত যাত্রীদের মধ্যে একজন আমেরিকান, দু’জন থাইল্যাণ্ডের নাগরিক, একজন করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের নাগরিক এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ান এবং জাপান ইত্যাদি দেশ চীনফেরত বিমানযাত্রীদের পরীক্ষা করার কাজ শুরু করেছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, কেন্দ্র বিমানবন্দরে থার্মাল ক্যামেরা ব্যবহার করে চীনফেরত যাত্রীদের পরীক্ষা করতে বলেছে। বাংলার স্বাস্থ্যকর্তাদের উদ্বেগের কারণ— প্রথমত, এখানে অধিকাংশই ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা। মানুষের থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগবে না। দ্বিতীয়ত, এই ভাইরাসের টিকা বা ওষুধ নেই।

তবে একটাই আশার কথা শুনিয়েছেন ঝন নানসাং-এর মতো নামকরা চীনা চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, ২০০২ এবং ২০০৩ সালে ছড়িয়ে পড়া সার্স বা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রম-এর মতো অত বিপজ্জনক বলে মনে হচ্ছে না করোনাকে। ওই দু’বছরে আট হাজার মানুষ সার্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মারা যান ৭৭৪ জন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব জানিয়েছেন, সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনের ১৪টি প্রদেশ এবং পুর এলাকা থেকে ৪৪০ জনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রধান উপসর্গের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন বাইল্যাটারাল নিউমোনিয়া এবং কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মারাত্মক শ্বাসকষ্টের সমস্যার কথা। জানিয়েছেন, পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি এই ভাইরাসের পরীক্ষা করার জন্য সবদিক থেকে প্রস্তুত আছে। প্রস্তুত রয়েছে দেশের আরও ১০টি আইসিএমআর গবেষণাগারও।