তৃণমূল বিধায়ক খুনের মামলায় বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ আদালতের

182

রানাঘাট, ৪ জানুয়ারিঃ তৃণমূল বিধায়ক সত্যজি‍ৎ বিশ্বাস খুনের মামলায় অস্বস্তিতে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তাঁর বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিল রানাঘাটের এসিজেএম আদালত। তিনি ছাড়াই ওই ঘটনায় রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বিরুদ্ধেও সিআইডি তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

শুক্রবার আদালতের নির্দেশ শোনার পরেই বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, ‘রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক সৌজন্য হারিয়ে ফেলেছে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে এখনও পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে ৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমাকে জেলে ঢোকানোর জন্য অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের উপরে বিশ্বাস রয়েছে। নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’

প্রসঙ্গত, গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পুজোর এক অনুষ্ঠানে ভর সন্ধ্যাবেলা অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক থেকে ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছেন নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। এই খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন সুজিত মন্ডল এবং কার্তিক মণ্ডল নামের দুই ব্যক্তি। কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে হাঁসখালি থানার ওসি অনিন্দ্য বসু এবং সত্যজিৎ বিশ্বাসের দেহরক্ষীকে। এই খুনের ঘটনায় মুকুল রায়-সহ চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে সেখানে পৌঁছেছে ফরেনসিক দল। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি পাঠানো হচ্ছে বালিস্টিক পরীক্ষার জন্য। খুনের দিন দেহরক্ষী ছুটিতে ছিলেন।

তাঁর ছুটি মঞ্জুর করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওসি এবং দেহরক্ষী উভয়ের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্ত চলছে। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজি‍ৎ বিশ্বাস। খুনের পরেই রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিধায়ক খুনের ঘটনার পিছনে হাত রয়েছে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুকুল রায়ের। কৃষ্ণগঞ্জ থানাতে যে এফআইআর দায়ের করা হয়, তাতে মুকুল রায়, ত‍ৎকালীন নদিয়া উত্তরের বিজেপি সভাপতি জগন্নাথ সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়।

যদিও তৃণমূল বিধায়কের খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রথম থেকেই অস্বীকার করে আসছেন মুকুল। গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনও নেন তিনি। খুনের তদন্ত ভার সিআইডির হাতে তুলে দেয় রাজ্য সরকার। কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ককে খুনের ঘটনার মামলা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার জন্য নিম্ন আদালতে আর্জি জানান মুকুল। সেই আর্জি মঞ্জুর করেন বিচারক। কিছুটা হলেও স্বস্তি পান রাজ্য বিজেপির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রানাঘাটের এসিজেএম আদালতের দ্বারস্থ হয় সিআইডি।

আদালতে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বেশ কিছু নথিপত্র জমা দিয়ে দাবি করা হয়, ‘তৃণমূল বিধায়ক খুনের ঘটনায় মুকুল রায়ের জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ফলে তদন্ত চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।’ সিআইডির সেই আর্জিতে সাড়া দিয়ে রানাঘাটের এসিজেএম কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক খুনের ঘটনায় মুকুল রায় ও রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।