এনআরসি ইস্যুতে পথে নামল সিপিএম,কোচবিহারে মহামিছিল

9

মুক্তাঙ্কন বর্মণ,১২সেপ্টেম্বরঃ বাংলায় কোনভাবেই এনআরসি করতে দেওয়া হবে না কোচবিহারে এসে এক পথসভায় এমনই মন্তব্য করলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার ১৬ দফা দাবির ভিত্তিতে কোচবিহারের জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দেয় জেলা সিপিআইএম নেতৃত্ব। এদিনের এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে মিছিলও সংগঠিত করে তাঁরা। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী, সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়, তারিণী রায়, মহানন্দ সাহা, তারাপদ বর্মণ প্রমুখ। কোচবিহারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে এদিনের এই মিছিল। এই মিছিলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী সমর্থক অংশ নেয়। মূলত অসমের এনআরসি ইস্যুকে কোচবিহারে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষেই এই মহামিছিল বলে জানিয়েছেন জেলা নেতৃত্ব।

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি ও তৃণমূল জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ সিপিআইএম নেতৃত্বের। এদিন রাসমেলা সার্কাস মাঠে সিপিআইএম কর্মী সমর্থকরা জমায়েত হয়ে কোচবিহার শহরে মিছিল সংগঠিত করে। এরপর এই মিছিল এসে পৌছায় কোচবিহার সাগরদিঘী পারে। সেখানে আমতলা মোড়ে একটি পথসভাও হয়। ওই সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআইএম নেতারা। এই সভায় সিপিএমের রাজ্যনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি ও তৃনমূলের টার্গেট হচ্ছেন বামপন্থী নেতা কর্মীরা। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলছে এই অত্যাচার। ঘাসফুল ও পদ্ম মিলে জেলার বুকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এই সভায় অনন্ত রায় বলেন, এইসময়ে বামপন্থী কর্মীদের উপর নামিয়ে আনা হয়েছে ভিন্ন রকমের অত্যাচার। যারা বামপন্থী করে বা করছে তাদের কেড়ে নেওয়া হচ্ছে জবকার্ড, গরীব মানুষ গুলি হারাচ্ছে ১০০ দিনের কাজ। পাশাপাশি এই মোদী সরকার শুরু করেছে এনআরসি নিয়ে টালবাহানা। যার শিকার হয়েছে অসমের প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ। জেলায় ভেঙ্গে পড়েছে কৃষিব্যবস্থা, কৃষকরা পাচ্ছে না তাদের ফসলের দাম তাঁরা শিকার হচ্ছেন বঞ্চনার। জেলার সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ এনে অনন্তবাবু আরও বলেন সম্প্রতি মাথাভাঙ্গার দলীয় কর্মী সদানন্দ বর্মণের উপর নামিয়ে আনা হয় আক্রমণ। জানা যায় ওই কর্মী বাজার করে বাড়ি ফেরার সময় তাকে মুখে কালো কাপড় বেধে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয় কোচবিহার ১ নং ব্লকের তুফানগঞ্জেও আক্রমণ নামিয়ে আনা হয় দলীয় কর্মীদের উপর। তাই এধরনের অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাতেই এদিনের এই মহামিছিল।

এই কর্মসূচী প্রসঙ্গে সিপিআইএম নেতা মহানন্দ সাহা বলেন, তৃণমূল বিজেপি জেলাজুড়ে যে রাজনীতি শুরু করেছে তা বিভাজনের রাজনীতি,যা এই জেলার সংস্কৃতির বাঁধা। অসমে এন আর সি লাঘু করার ফলে অস্থিরতায় রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার। এত কিছুর পরও কোচবিহারের পুলিশ প্রশাসন আজ নির্বিকার। আইনের শাসন বলতে কিছুই নেই, তাই অবিলম্বে কোচবিহারের বুকে আইনের আসন জারি করতে হবে দাবী জানান তিনি।