সিপিআইএমের ছাত্র-যুবদের নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার, পুলিশের লাঠিচার্জ

15

ওয়েব ডেস্ক, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ বেকারদের কাজ আর কম খরচে পড়াশোনা চাইতে নবান্ন অভিযানে আসা ছাত্র-যুবদের ওপর নির্মম আক্রমণ চালালো মমতা ব্যানার্জির পুলিশ। আক্রমণের যাবতীয় প্রস্তূতি নিয়েই রেখেছিল মমতার পুলিশ। সেই অনুযায়ীই এদিন ছাত্র-যুবদের মিছিল নবান্নের দিকে অগ্রসর হতেই জলকামান, লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে হামলা করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পিছু হটে আন্দোলনকারীরা। কিন্তু ফের এগিয়ে চলে মিছিল। বিশৃঙ্খলায় আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী। আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিশৃঙ্খলায় গুরুতর ছাত্র-যুবদের অনেকেই।

বৃহস্পতিবার থেকে সিঙ্গুর থেকে শুরু হয়েছে মিছিল। শুক্বরবার বঙ্কিম সেতু পেরিয়ে নবান্নের দিকে মিছিল এগোতে শুরু করে। একদিকে ছাত্র নেতাদের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে নবান্নে যাবেন তাঁরা। অন্যদিকে, মল্লিক ফটকের কাছে কড়া পুলিশ প্রহরায় ব্যারিকেড করেই রেখেছিল পুলিশ। প্রস্তুত ছিল জলকামান, কাঁদানে গ্যাস। ছাত্র নেতাদের দাবি পুলিশ যদি মিছিল আটকায় আমরা গোলাপ দিয়ে তাদের জড়িয়ে ধরব। শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দিলে দায়ী হবে প্রশাসন। কিন্তু শান্তিপূর্ণ মিছিল অশান্তিতে পরিণত হয়। মল্লিক ফটকের কাছেই রণক্ষেত্রে চেহারা নেয়। পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বাম ছাত্র-যুবদের ধস্তাধাস্তি বেধে যায়।

বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেই সিঙ্গুর বাজার থেকে নবান্ন অভিযানের উদ্দেশে মিছিল শুরু করে ১২ টি বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনের সদস্যরা। বৃষ্টিতে নির্ধারিত কর্মসূচি কিছুটা হলেও হোঁচট খায়। তবে তাতে উৎবসাহে ভাঁটা পড়েনি মিছিলকারীদের। রাতে ডানকুনি হাউজিং কমপ্লেক্স পর্যন্ত পৌঁছে সাময়িক বিরতি নেওয়া হয়। আজ সকালে ফের শুরু হয়েছে সেই মিছিল। হাওড়া হয়ে নবান্নের উদ্দেশে মিছিলের যে রুট ঠিক করা হয়েছিল তাতে প্রশাসনের অনুমতি নেই। তাসত্বেও মিছিল বন্ধ করেনি ছাত্র-যুবরা। আগে থেকেই মন্দিরতলা, শিবপুর মোড়-সহ নবান্ন সংলগ্ন বেশ কয়েকটি মোড়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন রাখা হয় র্যা ফ, জলকামানও। পর্যাপ্ত সংখ্যায় মহিলা পুলিশ কর্মীও রাখা হয়। সেই পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে নবান্নে পৌঁছে যেতে মরিয়া ছিল মিছিলাকারীরা। ফলে অশান্তির সৃষ্টি হয়।