পাহাড়ের হোটেলের উপর নজরদারি, অনলাইন তথ্যভাণ্ডার শুরু করছে দার্জিলিং জেলা পুলিশ

17

বিশ্বজিৎ সরকার,দার্জিলিংঃ শিলিগুড়ির হোটেল গুলিতে নজরদারি বাড়াতে এবার তৎপর দার্জিলিং জেলা পুলিশ। সেই লক্ষ্যেই এবার পাহাড়ের হোটেলগুলিতে  ডেটাবেস পরিষেবা চালু করতে চলেছে তারা। এক ক্লিকের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য যাতে চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই লক্ষ্যেকে বাস্তবায়ন করতে সাবেকি প্রথা বদল করতে চাইছে প্রশাসন। পাশাপাশি কার্সিয়াংয়ের সমস্ত হোটেল কর্তৃপক্ষকে তাদের সমস্ত তথ্য একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করাও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী সময়ে এই অনলাইন পরিষেবা দার্জিলিংয়েও কার্যকর করা হবে।  এবিষয়ে পুলিশ সুপার অমরনাথ কে বলেন, সব তথ্য এক জায়গায় রাখতেই ডেটাবেস তৈরির সিদ্ধান্ত নেওযা হয়েছে। নজর দেওয়া হচ্ছে হোটেলগুলির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও।

প্রসঙ্গত, গ্রীষ্ম এবং পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে আসেন প্রচুর পর্যটক। কিন্তু এখন বছরের প্রায় সবসময়ই পাহাড়ে এই পর্যটকদের দেখা পাওয়া যায়। যার ফলে পাহাড়ে বেড়ে চলছে হোটেলের সংখ্যা, কিন্তু নতুন করে তৈরি হওয়া অনেক হোটেলেরই তেমন কোনও তথ্য নেই পুলিশের হাতে। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই নতুন হোটেলগুলির তেমন কোনও তথ্য নেই তাদের কাছে। অথচ দিনের পর দিন  পাহাড়ে বেড়েই চলেছে প্রচুর বিদেশি পর্যটকের ভিড়। প্রশাসন মনে করছে এই বিষয়টির সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে। আইন মোতাবে কোনো হোটেলে যদি কোনও বিদেশি পর্যটক থাকে তাহলে ওই পর্যটকের সমস্ত তথ্য পুলিশকে দিতে হয় ফর্ম-সির মাধ্যমে। এর পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষকে দিতে হয় তাদের পাসপোর্ট, ভিসার প্রত্যয়িত কপিও। শুধু বিদেশীই নয়, দেশীয় পর্যটক থাকতে গেলেও জানাতে হয় পুলিশকে।

কাজটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এই তথ্য পুলিশকে দিতে চায় না বলে অভিযোগ।অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছে পুলিশের একটা অংশ। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ম্যানুয়ালের পরিবর্তে অনলাইন পদ্ধতি চালু হলে যেমন হোটেলগুলির সুবিধা হবে তার পাশাপাশি জানা যাবে পাহাড়ের হোটেল গুলিতে প্রকৃত কতজন  পর্যটক থাকছে। পুলিশের এধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ী থেকে টুর অপারেটররা।

হোটেল মালিকদের একাংশের বক্তব্য, এতদিন তারা নিরাপত্তাজনিত অসুবিধা বোধ করছিলেন। এই পরিষেবা চালু হলে তাদের খুব সহজেই পুলিশ প্রশাসনের সাথে সমন্বয়সাধন করতে পারবেন।

এবিষয়ে হিমালয়ান হোমস্টে ওনার্স অ্যাসোসিয়েনের শ্রেষ্ঠা শর্মা বলেন, এই পরিষেবা চালু হলে আমাদের অনেকটাই সময় বাঁচবে। কারণ বিদেশি পর্যটকদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য এতদিন আমাদের লিখিত আকারে দিতে হত। সেই কারনে যাবতীয় নথি ফোটোকপি করা এবং নির্দিষ্ট তথ্য ফর্ম-সির মাধ্যমে পুলিশকে দিতে হত আমাদের। এখন আমরা ঘরে বসেই সেই কাজ করতে পারব। তিনি আরও বলেন কার্সিয়াং মহকুমায়  মংপু, রোহিণী, তুরুক মিলিয়ে হোটেলের সংখ্যা আড়াইশোর বেশি। এই হোটেলগুলিতে এই পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে আমরা সত্যিই খুশি, পাশাপাশি পুলিশের অনলাইন তথ্যভাণ্ডারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।