মেয়েকে ডিভোর্স না দেওয়ার খেসারত, শ্বশুরবাড়ির লোকের হাতে খুন জামাই

417

ওয়েব ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারিঃ মেয়েকে ডিভোর্স না দেওয়া জামাইকে পিটিয়ে খুন শ্বশুরবাড়ির লোকের। নিজেদের ইচ্ছাই বিয়ে করেছিল। কিন্ত নিজ ইচ্ছাই বিয়ের পর মেয়ের বাড়ির লোক সেই বিয়ে মানতে নারাজ ছিল। তাই বিয়ের পর শুরু হয় অশান্তি। তাতে কাজও হয়। স্বামী সংসার ছেড়ে বাপের বাড়িতে গিয়ে ওঠে মেয়ে। তারপরেই জামাইকে ডেকে শুরু হয় চাপ দেওয়ার পালা। দিতে হবে ডিভোর্স, সঙ্গে মোটা অঙ্কের খোরপোষ। তাতে রাজি না হওয়ায় বাড়ির জামাইকে পিটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। মাল্টি অরগ্যান ফেলিওর হয়ে তারপর হাসপাতালেই মারা গেল বছর ২৪ বছরের ওই তরুন। সেই মৃত্যুর জেরে শনিবার সকালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলির বৈদ্যবাটি এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যবাটি এলাকার আদর্শনগরের বাসিন্দা সুব্রত রাহা প্রেম করে বছর দুয়েক আগে বিয়ে করে এলাকারই যুবতী কৃতি দাসকে। সেই সময় কৃতির জেদের কাছে হার মানতে হয়েছিল তার বাপের বাড়ির লোকেদের। বিয়েও তারা দেননি। বাড়ি থেকে বেড়িয়েই বিয়ে করেছিল কৃতি। যদিও পরে কৃতির বাপের বাড়ির লোকেরা বিয়ে মেনে নিচ্ছে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু সেটা যে নিছক একটা ছলনা তা বেশ বোঝা গিয়েছিল কয়েক মাস পর থেকেই। শুরু হয়েছিল কৃতিকে ভুল বুঝিয়ে সুব্রত’র কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পালা। সেই নিয়েই দুই পরিবারের বিবাদ বাধার পাশাপাশি বিবাদ বাধে কৃতি ও সুব্রত’র মধ্যেও। ইতিমধ্যে তাঁদের একটি ছেলেও হয়। যদিও বিবাদের কোনও মিটমাট হয়নি বলেই সুব্রত’র পরিবারের দাবি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই শুরু হয় অন্য খেলা। কৃতিকে তার বাপের বাড়ির লোকেরা সুব্রত’র সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দিয়ে ছেলেকে নিয়ে চলে আসতে বলে। সেই সঙ্গে তাকে বলে আদালতে সুব্রত আর তাঁর বাড়ির লোকেদের নামে বধূ নির্যাতনের মামলা দায়ের করে ডিভোর্স চাইতে। পাশাপাশি কৃতি ও তার ছেলের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা খোরপোষ চাইতেও বলা হয় তাকে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় কৃতি। তারপর থেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল সুব্রত। গত সপ্তাহে সুব্রতকে ডেকে পাঠায় কৃতির বাড়ির লোকেরা। সেখানেই তাঁকে চাপ দেওয়া হয় ডিভোর্সের কাগজে সই করে দেওয়ার পাশাপাশি ৩০ লক্ষ টাকা খোরপোষ বাবদ দেওয়ার জন্য। অভিযোগ সেই দাবি মানতে চায়নি সুব্রত। তারপরে সেখানেই তাঁকে লাঠি, রড, বাঁশ দিয়ে ব্যাপক মারধর করে কৃতির বাপের বাড়ির লোকেরা।

সেই মারধরের জেরেই গুরুতর আহত অচেতন সুব্রতকে কৃতির বাড়ির লোকেরাই স্থানীয় একটি হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যায়। সেই হাসপাতালের এক কর্মী সুব্রতকে চিনত। সেই খবর দেয় সুব্রত’র বাড়িতে। তাঁর বাড়ির লোকেরা সেই খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় ও সেখান থেকেই তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানিয়েছে।