বৌদি সাথে দেওরের পরকীয়া,পরিবারের লোকজন রাজী না হওয়ায় কি ঘটল জানুন

2160

ওয়েব ডেস্ক, ২৫ অক্টোবরঃ বৌদির সাথে পরকীয়া লিপ্ত দেওর। কিন্তু আর কতদিন এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে চলবে। একদম ভাল লাগে না। তাই এবার বাস্তব রুপ দিতে গিয়ে পরিবারের লোকজনকে জানিয়ে দেয়। কিন্তু পরিবারের লোকজন তা মেনে নেয় নি। তাই বাধ্য হয়ে বৌদি ও দেওর নিজেরাই নিজেদের গলা কেটে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। এমন দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার ভালসুনি গ্রাম এলাকায়। ওই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জানা গেছে, ভালসুনি গ্রামের বাসিন্দা রণজিৎ দাসের তিন ভাই। বাড়িতে রয়েছেন বাবা-মাও। যৌথ পরিবারের বড় ছেলে রবি এবং মেজো ছেলে রতন চাষবাস করেন। অবিবাহিত রণজিৎ রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তবে কর্মসূত্রে রণজিৎ ভিনরাজ্যেই থাকতেন। মাস পাঁচেক আগে বাড়িতে আসার পর আর কাজে যান নি। বছর দুয়েক আগে বিয়ে হয়েছে দাদা ও বৌদির। তারপর থেকেই বউদির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন ভাই। প্রথম গোপনে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন দেওর-বউদি। তবে তারপর তাঁরা স্থির করেন দু’জনে বিয়ে করবেন। পরিবারের সকলকে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন তাঁরা। তবে তা মানতে পারেনি পরিবার। তার জেরে একসঙ্গে গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন দেওর-বউদি।

পরিবার সূত্রে খবর, দু’বছর আগে মেজো ছেলে রতনের বিয়ে হয় মেমারি থানার সামন্তী গ্রামের মেয়ে লক্ষ্মীর সঙ্গে। তাঁদের ৮মাসের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকে দেওর রণজিতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই মহিলা। দাদার বিয়ের দু-তিন মাস পর ভিনরাজ্যে কাজে চলে যান রণজিৎ। তবে ফোনে রোজই দু’জনের কথা হত।

ওই মহিলার দেওর রণজিৎ বলেন, “আমরা ঠিক করেছিলাম এবার আর লুকিয়ে প্রেম নয়। দু’জনে বিয়ে করব। সেকথা বাড়িতে জানিয়েও দিয়েছিলাম। কিন্তু লোকলজ্জার কারণ দেখিয়ে পরিবার তা মানতে চাইছিল না। সম্পর্ক থেকে দু’জনকে সরে আসতে বলা হচ্ছিল। তাই দু’জনে মিলে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”

বৃহস্পতিবার সন্ধেয় পরিবারের নজর এড়িয়ে বাড়ি থেকে একসঙ্গে বেড়িয়ে পড়েন রণজিৎ ও লক্ষ্মী। তাঁদের দু’জনের হাতে ছিল একটি করে ধারালো ছুরি। বাড়ি থেকে একটু দূরে গিয়ে তাঁরা নিজেদের গলায় চালিয়ে দেন ছুরি।

বৌদি লক্ষ্মী বলেন, “প্রথমে নিজের গলা কাটি। তারপর রণজিতের। দু’জনের গলা থেকে অঝোরে রক্ত পড়তে থাকে। হাত কাঁপছে। তখন বাড়ি থেকে ফোন যায় রণজিতের মোবাইলে। রণজিৎ তখন বাড়ির লোকজনকে এই ঘটনাটি জানায়। সঙ্গে সঙ্গে সবাই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে ওরা।”

মহিলার স্বামী রতন দাস অবশ্য স্ত্রীর পরকীয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ভাই এবং আমার স্ত্রীর মধ্যে এই সম্পর্কের কথা আমি জানতাম না। কীভাবে যে এসব ঘটল খুব অবাক লাগছে।” জখম ওই দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই হাসপাতালে পৌঁছোয় কাটোয়া থানার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের পরিবারের সদস্যদের। আলাদাভাবে কথা বলে দেওর ও বৌদির সঙ্গেও।