বাংলায় এনআরসি আতঙ্কে মৃত্যু যুবকের, নির্বিকার এলাকাবাসি

16

মুর্শিদাবাদ, ১৮ সেপ্টেম্বরঃ এনআরসি চালু হয়নি এখনো। তবে এনআরসি ছায়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই কুকড়ে রয়েছে সীমান্তের গ্রামগুলি। পূর্বপুরুষের নথি কিংবা ভিটেমাটি দলিল জোগাড় করতে স্থানীয় ব্লক অফিসে আর ভূমিরাজস্ব দপ্তরে কয়েকদিন ধরেই আতঙ্কিত মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ১৭ দিন ধরে সেখানে সেই সব না পেয়ে বাড়ি ফিরে আত্মঘাতী হয়েছেন এক যুবক মুর্শিদাবাদের এক যুবক।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মৃত ওই যুবকের নাম মিলন মন্ডল। তার বাড়ি মুর্শিদাবাদের শিবনগর গ্রামে। জানা গেছে, নাগরিকপঞ্জি নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভুগে ভুগে ভয় ধরে গিয়েছিল তার তার জেরেই আত্মঘাতী হয়েছে মিলন। নাগরিকপঞ্জি নিয়ে উদ্বেগের জেরে রাজ্যে কেউ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে এমন শোনা যায়নি আগে।

মিলনের বাবা বিস্তার মণ্ডল বলেছেন, ‘কেরলে কাজ করতো ছেলে। কোন সমস্যা ছিল না তার। ছেলে ঘরে ফিরেই ভোটার কার্ড আধার কার্ড নামের ভুল বানান আর ঠিকানার গন্ডগোল দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছিল। তারপরে দু-সপ্তাহ ধরে সারাদিন বিডিও অফিসে ঘুরে বেরিয়েছে আর বলেছে, এগুলো সংশোধন করাতেন না পারলে ভিটেমাটি ছাড়তে হবে আব্বাকে।’

তারপর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে শাড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়েন মিলন। তার স্ত্রী রেনুকা বলেছেন, ‘সারাটা বিকেল চুপচাপ শুয়ে ছিল বিছানায়। খেলো না কিছুই। আর বারবার বলছে, ভিটেমাটি পরিবার উচ্ছেদ হবে গো।’ তারপর রাতে তার মা আদরা বিবি শৌচাগারে যাওয়ার সময় ঘরে ছেলের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়।

এবিষয়ে ভগিরাতপুর স্বাস্থ্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আতিকুর রহমান বলেন, “নাগরিকপঞ্জি নিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক ভয়াবহ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ওই যুবক হয়তো অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন। তারই পরিণতি হয়তো এমন কাণ্ড হয়েছে।” তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরে মিলনের দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়নি। তবে মাতব্বরেরা সালিশি করে সিদ্ধান্ত নেন পুলিশি ঝামেলায় না গিয়ে কবর দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে তৃণমূলের স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত জুলেখা বিবি বলেন, “শুধু মিলন নয়, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এই নাগরিক পঞ্জির আতঙ্কে ভুগছে।”