এনআরসি আতঙ্কে মৃত্যু কোচবিহারের এক গৃহবধুর, রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ৯

49

কোচবিহার, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটে কোচবিহার ১নং ব্লকের ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাওয়ারগাড়ি গ্রামে। মৃত ওই গৃহবধুর নাম আরজিনা খাতুন বিবি (২৭)। পরিবারের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে রেশন কার্ডের নাম সংশোধন করার জন্য বিডিও অফিসে ছুটছুটি করছিলেন। কিন্তু সেই নাম সংশোধন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেন ওই গৃহবধু।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ওই গৃহবধু কিছুদিন থেকেই এনআরসি আতঙ্কে অবসাদে ভুগছিলেন। পাশাপাশি ওই গৃহবধুর ভোটার কার্ডেও ভুল রয়েছে বলে জানা গেছে। বেশ কয়েকদিন ধরে ওই গৃহবধুর তার কাগজ সংশোধন করতে স্থানীয় বিডিও অফিসে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেও তিনি তার রেশন কার্ডের কাজ করাতে পারেন।

কিন্তু এনআরসি আতঙ্কে ফলে কিভাবে ভোটার কার্ড সংশোধন করবে তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। ফলে মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পরে ওই গৃহবধূ। মঙ্গলবার সকালে ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতে জান ওই গৃহবধু। সেখান থেকে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন তিনি। পরে মানসিক অবসাদেই নিজের ঘরের মধ্যে বাড়ির লোকের আড়ালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই গৃহবধু।

এ বিষয়ে মৃতা গৃহবধুর ভাই জানায়, আমার দিদি আজ ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়েছিলেন ভোটের কার্ড সংক্রান্ত কাজ করাতে এবং এনআরসি বিষয় জানতে। সেখান থেকে ফিরে এসে দিদির কি হয়েছে তা জানা যায় নি। পরে শুনতে পারি যে দিদি গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

মৃতার ভাই অভিযোগ, দিদি খুব গরিব মানুষ। দিন আনে দিন খায়, এনআরসি চালুর খবর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পরেছে। ফলে ভিটে মাটি হারানোর আতঙ্কেই দিদি গলায় ফাঁসি দিয়েছে আত্মহত্যা করেন।   

 স্থানীয় তৃনমূল কংগ্রেস নেতা গোলজার হোসেন বলেন, “অসমের পর বাংলাতেও এন আর সি করা হবে বলে বিজেপি নেতারা ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সাধারন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তার জেরে এদিন আত্মঘাতী হতে হল ওই গৃহবধুকে।”

অন্যদিকে বিজেপির কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক বলেন, “এরাজ্যে এন আর সি শুরু হয় নি। অথচ তৃনমূল কংগ্রেস জেলা থেকে অঞ্চল স্তর পর্যন্ত এন আর সির বিরোধিতা করে আন্দোলন করছে। এর জেরেই সাধারন মানুষের মনে আতঙ্কের তৈরি হয়েছে। কেউ যদি সত্যি সত্যি এন আর সি আতঙ্কে আত্মহত্যা করে তার দায় তৃনমূলকে নিতে হবে।”

প্রসঙ্গত, এরাজ্যে এনআরসি আতঙ্কে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। রাজ্যে মোট এখন পর্যন্ত ৯ জনের আত্মহত্যা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হিঙ্গলগঞ্জ, মাটিয়া, বসিরহাট এলাকা মিলিয়ে মোট তিন জনের মৃত্যু হয়েছে, এনআরসির আতঙ্কে। তারপর জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট এবং মুর্শিদাবাদে এনআরসি আতঙ্কে আত্মহত্যা করেন এক যুবক। তার কয়েকদিন কাটতে না কাটতে মঙ্গলবার ধূপগুড়ির শ্যামল রায়(৪০)। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাহাদুরে সাবের আলি এবং কোচবিহারের গৃহবধু আরজিনা খাতুন বিবি (২৭) আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি তার পরিবারের।