গঙ্গারামপুরে মহিলাকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃনমূলের উপপ্রধান

29

বালুরঘাট ৬ ফেব্রুয়ারীঃ অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরের নন্দনপুর এলাকায় মহিলাকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত উপপ্রধান অমল সরকার। আজ দুপুরে তাকে নন্দনপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করলো গঙ্গারামপুর থানার পুলিস। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ চাপে পড়ে পুলিশ আজ তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ, ওই ঘটনার পর থেকে  পুলিশ  তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না বলে জানিয়ে আসছিল। অথচ  আজ সেই নন্দনপুর থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করায় পুলিশের তদন্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।

যদিও জেলা পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত ওই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, আজ ওই ঘটনায় জড়িত উপপ্রধান অমল সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ ওই অভিযুক্তকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তুলবে পুলিস। এই নিয়ে সেদিনের ঘটনায় জড়িত পাচজনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ।  এর আগে গোবিন্দ সরকার ও তপন শীলকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পেরেছিল। এখনও দুজন অভিযুক্ত অধরা। তবে মুল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ওই প্রহৃতা ও তার পরিবারের বলে তারা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১ ফেব্রুয়ারী  গংগারামপুর থানার নন্দনপুরে এলাকায় রাস্তা তৈরিকে ঘিরে এক মহিলাকে দড়ি বেধে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাকে ব্যাপক মারধোর ও শ্লীলতাহানী করা নিয়ে ধুন্দুমার কান্ড বাধে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের নন্দনপুরে। অভিযোগের তির স্থানীয় তৃনমুল নেতৃত্বের দিকে উঠলেও তৃনমুলের তরফে তা অস্বীকার করা হয়। যদিও ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে স্থানিও তৃনমুল পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের নেতৃত্বে ওই মহিলার উপর হামলা ও  শ্লীলতাহানী চালানো হচ্ছে। অভিযোগ গঙ্গারামপুর থানায় এব্যাপারে অভিযোগ জানালেও পুলিশ প্রথমে এব্যাপারে কাউকে গ্রেফতার না করলেও পরে এই নিয়ে জেলা ও রাজ্য জুড়ে ব্যাপক সোরগোল পড়ে যাওয়ায় দুজনকে গ্রেফতার করলেও ওই উপপ্রধান অমল সরকারকে খুঁজে পায়নি বলে জানায়। পাশাপাশি পরবর্তীকালে এই নিয়ে জেলায় তো বটেই ঘটনার অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পাশাপাশি ওই পার্শ্ব শিক্ষিকাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার অত্যাচার শিকার নিয়ে রাজ্যের বিজেপি সাংসদরা রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার  পাশাপাশি কলকাতার হাইকোর্টেও  বিষয়টি ওঠে।

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশে জেলা আইনি পরিষেবার ঘটনাস্থলে গিয়ে  বিষয়টির খোজ খবর শুরু করে। এই নিয়ে জেলা ও রাজ্যে উত্তেজনার পারদ ক্রমশই চড়ছিল। এমত অবস্থায় জোড়া চাপে পরে পুলিশ নড়ে চড়ে বসে। আজ দুপুরে প্রধান অভিযুক্ত ওই উপপ্রধান তথা জেলা তৃনমুল নেতা অমল সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর পর রাজ্য জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠায় তৃনমুলের পক্ষ থেকে ওই প্রধান অভিযুক্ত অমল সরকারকে দল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করে পুর ভোটের আগে নিজেদের ভাবমুর্তি কিছুটা হলেও উজ্জল করবার মরিয়া চেষ্টা চালায়।