জোড়া সুপারি কিলার দিয়ে খুন নিমতার ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়া দেবাঞ্জন,জেরার মুখে বান্ধবী

1019

ওয়েব ডেস্ক, ১৮ অক্টোবরঃ নিমতায় যুবকের আশ্চর্য মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। প্রথমে গুলি করে খুন করা হয় ওই পড়ুয়াকে। পুলিশের অনুমান, সুপারি কিলার নিয়োগ করেই দেবাঞ্জনকে খুন করা হয়েছিল। তাও একজন নয় দুজনকে নিয়োগ করা হয়েছিল এই খুন করতে। দেবাঞ্জনের বান্ধবীকে দফায় দফায় জেরা করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তারপরই পুলিশের হাতে উঠে আসতে থাকে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। যার অন্যতম এই নতুন তথ্য। 

জানা গিয়েছে, দেবাঞ্জনই গাড়ি চালাচ্ছিল। ড্রাইভিং সিটে যখন দেবাঞ্জন ছিলেন তখন গাড়ির তিনদিকের জানলা বন্ধ ছিল। শুধুমাত্র খোলা ছিল ড্রাইভিং সিটের পাশের জানলা। তাঁর দেহ পরীক্ষা জানা গিয়েছে, ঘাড়ের বাঁদিক ও হাতের বাঁদিকে গুলির ক্ষত রয়েছে। খুনি যদি গাড়ির বাইরে থাকত তবে বাইরে থেকে গুলি চালালে তা লাগত দেবাঞ্জনের ডানদিকের ঘাড় ও হাতের ডান দিকে। এই থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি গাড়িতেই বসেছিল সুপারি কিলার?

একই সঙ্গে সেদিন রাতে দেবাঞ্জনের সেই বান্ধবী কোথায় ছিলেন তা জানতে তাঁর মোবাইল টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁর কল ডিটেলসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নবমীর রাতে বান্ধবীকে গাড়ি চালিয়ে বিরাটির বাড়িতে নামান দেবাঞ্জন। তারপরই তিনি খুন হন। আততায়ীর খোঁজে দমদম ও বিরাটি-সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে নিমতা থানার পুলিশ। ঘটনা পরপরই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দুর্ঘটনায় দেবাঞ্জনের মৃত্যুর তত্ত্ব খারিজ হয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, দেবাঞ্জনকে খুন করতে ২ জন ভাড়াটে খুনিকে নিয়োগ করা হয়েছিল। নবমীর রাতে বান্ধবীকে বিরাটির বাড়িতে নামিয়ে ফেরার পথেই পরিকল্পনা মাফিক দেবাঞ্জন দাসকে খুন করে ওই ভাড়াটে খুনিরা। ঘটনার সময় তাঁর বান্ধবী ঠিক কোথায় ছিলেন, সেটা জানতে তরুণীর মোবাইল লোকেশন এবং কল ডিটেলসও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

দুর্গাপুজোয় নবমীর দিন বান্ধবীকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে গিয়ে নিজের গাড়িতেই রহস্যমৃত্যু হয় ২০ বছরের তরতাজা যুবক দেবাঞ্জন দাসের। অভিযোগ ছিল, তাঁর মাথার পিছন থেকে গুলি করা হয়েছে এবং গুলিটি মুখের সামনে দিয়ে বাইরে বেরিয়েছে। গাড়ির ব্রেক প্যাডেলের কাছে পড়ে থাকতে দেখা যায় বুলেটের টুকরো। ড্যাশবোর্ডের নীচে পাওয়া যায় গুলির খোল। এরপরই দেবাঞ্জনের পরিবার নিমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে উলটে তাঁদেরকে ভয় দেখানো হয় বলে দাবি করছেন দেবাঞ্জনের বাবা।

তাঁর অভিযোগ ছিল, গাড়িটি যদি দুর্ঘটনার কবলে পড়ত, তাহলে চালকের সিটের এয়ারব্যাগ খুলে যেত। কিন্তু গাড়িতে থাকা এয়ারব্যাগ খোলেনি। পাশাপাশি আরও অনেক অভিযোগ এবং ধোঁয়াশা ছিল। সবই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।