দেবীপক্ষের একাদশীতে আয়োজন ভাণ্ডানি পূজার

55

আরতি হরিজন, ৯ অক্টোবরঃ পুত্র কন্যাদের নিয়ে মর্ত্যে পূজিত হয়ে উমা রওনা দিলেন বাপের বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে। কিন্তু কৈলাসে যাবার পথে উত্তরবঙ্গের ডূয়ার্স অঞ্চলের বন জঙ্গলে তিনি পথ হারিয়ে ফেলেন বলে কথিত রয়েছে। শেষে বনবসতির মানুষেরা তাকে উদ্ধার করে পথের দিশা দেখান। সেই সময় দেবী খুশী হয়ে তাদের ভাণ্ডার পূর্ণ করার আশীর্বাদ করেন। সেই থেকেই দেবী পক্ষের একাদশী তিথিতে ভাণ্ডারী রুপে দেবীকে পূজা করা হয়।

ভিন্ন মত অনুসারে, দেবী দুর্গা কৈলাসের যাত্রা পথে বনাঞ্চলের বিভিন্ন জনজাতি গোষ্ঠী মূলত কৃষক রমণীরা দেবীর পথ আটকে তাদের ভাণ্ডার পূরণ করার দাবী জানান। এরপরেই নাকি সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা হয়ে ওঠে প্রকৃতি। তারফলে শ্রমজীবী মানুষের ভাণ্ডার পূর্ণ হয়। এরপরেই দেবীকে পূজা করা হয় ভাণ্ডানি রুপে।

ভাণ্ডানি, দেবী দুর্গারই একটি রূপ বলে জনশ্রুতি। উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলের এই পূজার ব্যপক প্রচলন রয়েছে। কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা ও মেখলিগঞ্জ মহকুমায় এই দেবীর পূজার প্রচলন আছে। মাথাভাঙার গোলকগঞ্জ, কেশরীবাড়ি, মেলারমাঠ প্রভৃতি এলাকায় এই পূজা হয়ে থাকে।

মেখলিগঞ্জের ভোটবাড়ি, নিজতরফ, রানীরহাট, জামালদা এলাকায় এই দেবীর পূজা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও ভাণ্ডানি দেবী পূজিত হচ্ছেন সাড়ম্বরে। দেবী এখানে ব্যঘ্র বাহিনী। এই দেবীর কোথাও দুটি  কোথাও বা চারটি হাত রয়েছে ।