সম্প্রীতির বন্ধনে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে শ্রমিকদের হাতে রাখি পরিয়ে শুভ সূচনা করল নিমতৌড়ী হোমের দিব্যাঙ্গরা

25

প্রসেনজিৎ রায়, পূর্ব মেদিনীপুরঃ দিব্যাঙ্গরা রাখি বন্ধন করল বিশেষ বার্তা জানিয়ে। সম্প্রীতির বন্ধনে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে শ্রমিকদের হাতে রাখি পরিয়ে শুভ সূচনা করল নিমতৌড়ী হোমের দিব্যাঙ্গরা। যতই বিজ্ঞাপনে বাড়ির বাইরে বেরোতে না বলুক পেটের টানে এবং প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও শ্রমিকদের বিভিন্ন বাড়িতে যেতে হচ্ছে। তাই তাদের নিমতৌড়ী তমলুক উন্নয়ন সমিতির দিব্যাঙ্গজনেরা তাদের নিজেদের হাতে তৈরী করোনা সচেতনতার রাখি পরিয়ে রাখি বন্ধনের শুভ সূচনা করে। শুধু তাই নয় একটি করে মাস্ক তাদের হাতে তুলে দেয়। প্রত্যেককেই একটি করে বকুল চারা এবং নিজেদের হাতে তৈরী নারকেল নাড়-খাইয়ে মিষ্টি মুখ করানো হয়।

দিব্যাঙ্গ পম্পা, মালবিকা, মধুমিতা, রবীন্দ্রনাথ সংগ্রামরা এই করোনা রাখি পরিয়ে শুধু খুশিই নয় করোনা সচেতনতার বার্তা এই শ্রমিকদের সচেতন করতে পারবে, এই সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে পেরে করোনা পরিস্থিতিতে নিজেদেরকে সামিল করার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ সামন্ত বলেন, প্রতিবছরই কোনো না কোনো বিশেষ বার্তা নিয়ে আমাদের হোমের আবাসিক ও দিব্যাঙ্গরা বিভিন্ন ধরনের রাখী তৈরী করে থাকে যেগুলি শুধু পরানোই নয় এগুলি বিক্রি করেও এদের আয় উপার্জন হয়। সেই সাথে সাথে স্বাধীনতা সংগ্রামী,সাংসদ মন্ত্রী জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন অফিস আদালত, পথচলতি মানুষদেরও পরানো হয় এই রাখী।

এবছর শুধু মাত্র একটি সচেতনতার বার্তা-করোনা ভাইরাসকে জয় করতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন, মাস্ক ব্যবহার করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন এই আহ্বান জানিয়ে  স্বাস্থ্য বিধি মেনে ৫ হাজার রাখি পরানোর আজ শুভ সূচনা করা হল। এবং যতদিন না করোনা প্রতিষেধক টিকা বেরোয় ততদিন পর্যন্ত এই সচেতনতার বার্তার রাখি তৈরীও হবে এবং পরানো হবে।

এদিন যাদের হাতে রাখি পরিয়ে রাখি বন্ধনের শুভ সূচনা করা হল তারা প্রত্যেকেই শ্রমিক। একদিন না কাজে গেলে তাদের পরিবারের অন্ন জোটে না। আবার যে কাজের সাথে তারা জড়িত সেই কাজ না হলে অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবন যাপনে সংকট তৈরী হয় সুতরাং তাদের যেতেই হয় আবার তাদেরকে বাধ্যবদ্ধকতায় কাজে লাগাতে হয়। এই মানুষগুলো সচেতন না হলে এদের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবারে এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্বাবনা থাকে। তাই এদের হাতে রাখি পরিয়ে, মাস্ক দিয়ে, আর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় একটি করে চারা গাছ তাদের হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা হোম কর্তৃপক্ষ সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে পারব।

হোমের আবাসিক আর দিব্যাঙ্গ হলেও তারাও সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সমান অংশীদার। তাদের পূর্ন অংশগ্রহন সুনিশ্চিত করে ও তাদের সমান অধিকার, সমান সুযোগ, পূর্ণ অংশ গ্রহন করাতে পেরে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কর্তব্য পালনে গর্বিত। বলদেব পাল, তাপস ভৌমিক, রামপদ ভৌমিক, বিষ্টু মাইতি, চন্দ মোহন সামন্তরাও সেই সাথে সাথে ৪১ নং জাতীয় সড়ক সংস্কারের কাজে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শ্রমিকদের এই রাখি পরানো হয়েছে। বাংলার ঐতিহ্য সম্প্রীতি বন্ধন ও করোনা ভাইরাস সচেতনতার বার্তায় এবারের রাখি বন্ধন ছিল ভীষণ তাৎপর্যপূর্ন।

প্রতিবছরের মতো এবছরও মননীয় মন্ত্রী শ্রী যুক্ত শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় হোমের সমস্ত আবাসিক ও দিব্যাঙ্গদের জন্য রাখি ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। হোমের আবাসিক বোনেরাও তাদের তৈরী রাখি মন্ত্রীর জন্য পাঠান এবং শুভ কামনা করেন।