প্রধান পদ থেকে অপসারিত হয়ে দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন দিনহাটার তৃণমূল নেতা আবুয়াল আজাদ

268

মনিরুল হক, দিনহাটাঃ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে অপসারিত হয়ে দলের স্থানীয় বিধায়কের রিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দিনহাটার গীতালদহ এলাকার ডাক সাইটে তৃণমূল নেতা আবুয়াল আজাদ। আজ রীতিমত ১৪৪ ধারা জারি করে প্রচুর সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করে দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের গীতালদহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান আবুয়াল আজাদের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থার তলবিসভা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাকবিতণ্ডা চলার পরে শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির আগেই সভা ত্যাগ করে বের হয়ে আসেন আবুয়াল আজাদ। তিনি বের হওয়ার পর ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ জন পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে ৬ জন অনাস্থার পক্ষে থাকায় আবুয়াল আজাদ প্রধান পদ থেকে অপসারিত হন।

পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার আবুয়াল আজাদ তলবিসভার পদ্ধতি নিয়ে দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের বিডিও’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন। এরপরেই তিনি সিতাইয়ের বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করতে থাকেন। তাঁর অভিযোগ, দলীয় নেতৃত্বের নিষেধ থাকা স্বত্বেও বিধায়ক এই অনাস্থা নিয়ে এসেছেন। যখন বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ, পার্থ প্রতিম রায় জেলা সভাপতি ছিলেন, তখন তাঁদের মানেন নি। এখন গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ জেলা সভাপতি হয়েছেন, তাঁকেও মানছেন না সিতাইয়ের দলীয় বিধায়ক। ব্লকের কোন নেতৃত্বকেও তাঁর পছন্দ হয় না। যত ঘুষখোর, দালালদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে আবুয়াল আজাদ অভিযোগ করেছেন। এমনকি তলবি সভায় এতো পুলিশ কেন? তা নিয়েও অভিযোগ করেন ওই নেতা। অন্যদিকে সিতাইয়ের বিধায়কের এনিয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায় নি।

অপরদিকে অনাস্তা নিয়ে আসা মোক্তার আলী সহ বাকি পঞ্চায়েত সদস্যরা বলেন, “দলকে আমরা নেতার বিরুদ্ধে অনেকবার জানিয়েছি কিন্তু দল আমাদের এই বেপারে কোন রকম সহযোগিতা করেনি। তাই বাধ্য হয়ে এই অনাস্থা।”

দলের জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, “আজ গীতালদহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধানের বিরুদ্ধে নিয়ে অনাস্থা ৪-৬ ভোটে পাস হয়েছে। যে সমস্ত পঞ্চায়েত সদস্য এই অনাস্থা নিয়ে এসেছেন, তাঁরা এর আগেও জেলা সভাপতির ডাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসলেন, এরপর দলের রাজ্য নেতৃত্ব ও চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে ওই পঞ্চায়েত সদস্যদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্বিধান্ত নেওয়া হবে।” তবে এনিয়ে জেলা সভাপতি বিধায়কের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কোচবিহারে বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েতে দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধেই অনাস্থা নিয়ে আসেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যরা। কিন্তু দলের জেলা নেতৃত্ব এভাবে অনাস্থা নিয়ে আসার বিরুদ্ধে সিধান্ত নেন। নতুন করে যাতে কোথাও অনাস্থা নিয়ে না আসা হয়, তার জন্য পঞ্চায়েত সদস্যদের নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয় দলীয় সিধান্ত অমান্য করলে বহিষ্কার পর্যন্ত করার কথাও ঘোষণা করেন কোচবিহার জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু সিতাই বিধানসভা এলাকায় একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে স্থানীয় বিধায়ক অনুগামী পঞ্চায়েত সদস্য দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করে অনাস্থা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। সেই কারণে ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ওকরাবাড়ি এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যদের বহিষ্কার করা হয়। গীতালদহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা নিয়ে আসার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে বহিষ্কৃত করা হয় নূর আলম হোসেন নামে বিধায়ক ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকেও। এই নিয়ে প্রকাশ্য সভায় বিরোধিতা করেন বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়া। ফলে জেলা নেতৃত্ব এবং বিধায়কের গোষ্ঠী লড়াই কার্যত প্রকাশ্যে চলে আসে। কিন্তু তারপরেও এদিন গীতালদহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অনাস্থা ঠেকাতে পারলেন না তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। এই অবস্থায় তৃণমূলের কোচবিহার জেলার বর্তমান নেতৃত্ব কি ভূমিকা নেন, এখন সেটাই দেখার।