দিনাহাটার সীমান্ত এলাকার দাপুটে তৃণমূল প্রধান আবুয়াল আজাদকে সরাতে অনাস্থা, চরমে গোষ্ঠী কোন্দল 

775

সংবাদদাতা, দিনহাটাঃ দিনহাটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা গীতালদহ ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আবুয়াল আজাদের বিরুদ্ধেই এবার অনাস্থা নিয়ে আসলেন তাঁর দলেরই ৬ পঞ্চায়েত সদস্য। সোমবার দিনহাটা ১ নম্বর ব্লক অফিসে ওই অনাস্থা প্রস্তাব আনা ৬ পঞ্চায়েত সদস্যদের স্বাক্ষর ভেরিফিকেশন করা হয়। এরপরেই যে কোন দিন তলবি সভা হলে দলের ওই ডাপুটে নেতাকে প্রধানের পদ থেকে সরে যেতে হবে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর।  সম্প্রতি তাঁরই অনুগামী বলে পরিচিত গিতালদহ ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের এক প্রধানকে সরিয়ে দিয়ে নতুন প্রধান করা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই আবুয়াল আজাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা নিয়ে দিনহাটায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গিয়েছে, সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দিনহাটা ১ নং ব্লকের গিতালদহ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদে রয়েছেন আবুয়াল আজাদ। এর পাশাপাশি তিনি ব্লকের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। তৃণমূলের দখলে থাকা ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্য সংখ্যা ১১ জন। তারা সকলেই তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য। এর মধ্যে ৬ জন পঞ্চায়েত সদস্য প্রধানের অপসারণ চেয়ে বিডিওর কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। সেই অনাস্থার আবেদনের ভিত্তিতেই এদিন পঞ্চায়েত সদস্যদের ডেকে স্বাক্ষর ভেরিফিকেশন করা হয়।

অনাস্থা নিয়ে আসা পঞ্চায়েত সদস্যদের পক্ষে বক্তার মিয়া বলেন, “প্রধান নিজের ইচ্ছা মত কাজ করেন। অন্যান্য সদস্যদের কোন মতামত শোনেন না। এলাকায় যা কাজ হয়েছে তা খুবই নিম্ন মানের। এলাকার মানুষ চাইছেন দুর্নীতিগ্রস্থ প্রধানকে তাঁর পদ থেকে সরাতে। এলাকার মানুষের সেই দাবীকে মানত্যা দিতেই তাঁর বিরুদ্ধে আমারা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। আজকে আমাদের সেই আবেদনের ভিত্তিতেই স্বাক্ষর ভেরিফিকেশন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “প্রধান হওয়ার সময় তার কাঁচা বাড়ী ছিল। এখন তিনি বিল্ডিং বাড়ী করেছেন। তিনি কোথায় পেলেন এত টাকা?”

যদিও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আবুয়াল আজাদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কখনো দুর্নীতিকে মদত দেই নি। আসলে যারা দুর্নীতি করতে চেয়ে পারেনি। তারাই চক্রান্ত করে আমাকে প্রধান পদ থেকে সরাতে চাইছেন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। এলাকার মানুষ আমার সাথে আছেন। তাই আমি প্রধান থাকলেও তারা থাকবেন। না থাকলেও আমার সাথে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের যুব-মাদারের গোষ্ঠী কোন্দল চরম আকার নিয়েছিল।  ওই সময় দিনহাটার বেশ কিছু এলাকার সাথে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিলে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া গীতালদহ এলাকা। প্রায় প্রতিদিনই গোলাগুলি, বোমাবাজি সহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত, এমনকি এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছিল। সেই সময় ওই এলাকায় তৃণমূলের যুব গোষ্ঠীর শক্তি অনেকটাই বেশী ছিল। যার নেতৃত্বে ছিলেন আবুয়াল আজাদ। কাজেই তৃণমূলের দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দল হয়ে লড়াই করেও জয়ী হন যুব গোষ্ঠীর প্রার্থীরা। আর তাঁদের নেতৃত্বেই ওই এলাকার একাধিক পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন হয়। তখন থেকেই গিতালদহ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান প্রধান আবুয়াল আজাদ। পরবর্তীতে দলের মূল সংগঠনের দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। কিন্তু এবার একুশের বিধানসভার ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই পরিস্থিতির বদল হতে থাকে। সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জগদীশ বসুনিয়া জয়ী হয়ে বিধায়ক হওয়ার পরেই ওই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা গুলোর নতুন করে সংগঠন সাজানোর কাজ শুরু হয়। কোথাও কোথাও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পর্যন্ত বদল হতে শুরু করে। আর সেই কারণেই গীতলদহে আবুয়াল আজাদদের গোষ্ঠী অনেকটাই কোন ঠাসা বলে মনে করা হচ্ছে।