একই দিনে ডবল ডোজ চন্দ্রগ্রহণ-সাইক্লোন, বিপদ কি বাড়তে চলেছে?

169

ওয়েব ডেস্ক, ২০মেঃ আবহাওয়া দপ্তরের মতে ২৬ মে রাজ্যে হানা দিতে পারে সাইক্লোন যশ, সেই দিনেই আবার চন্দ্রগ্রহণ। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে যে গ্রহণের জন্য জলোচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যাবে না তো? কারণ সাধারণ সময়ে চন্দ্রগ্রহণ হলে জলের উচ্চতা স্বাভাবিকভাবেই একটু বেড়ে যায়। এবারে ওই দিনে সাইক্লোন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশঙ্কা করছেন জোড়া প্রভাব পড়বে না তো রাজ্যের উপর।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ‘এমন কোনও সম্ভাবনা নেই। সাইক্লোনের জলোচ্ছ্বাস শুধুমাত্র সমুদ্রের জন্যই হবে। এর সঙ্গে মহাজাগতিক কোন ঘটনা আলাদা করে ঘটার কোনও সম্পর্ক নেই। চন্দ্র গ্রহনের জন্য জলোচ্ছ্বাস হবে না বা এর সঙ্গে ঝড়ের ফলে জলোচ্ছ্বাসের কোনও সম্পর্কই নেই।

২৬ মে, ওইদিন দেখা যাবে এই বছরের প্রথম গ্রহণ। সাথে এটি আবার ব্লাড মুন। যেটি এই বছরের প্রথম ও একমাত্র এমন চন্দ্রগ্রহণ। বলা হচ্ছে ভারতের অনেক জায়গা থেকেই দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণ। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও আংশিক দেখা যাওয়ার কথা কিন্তু সাইক্লোনের মেঘে ঢাকা আকাশে আর চাক্ষুস করা যাবে কি না তা বলা যাচ্ছে না। সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় এই গ্রহণ দেখা যেতে পারে। কতক্ষণ স্থায়ী হবে এই চন্দ্রগ্রহণ? বলা হচ্ছে তিন ঘণ্টা ধরে চলবে গ্রহণ পর্ব। ধীরে ধীরে এই গ্রহন সম্পূর্ণ হবে এবং পড়ে সেটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ রুপে পরিণত হবে। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ কতক্ষণ দেখা যাবে? জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন সেটি স্থায়ী হবে মোটামুটি ১৫ মিনিট।

 বিজ্ঞানীদের মতে, চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে দুপুর ২.১৭ মিনিট থেকে। সর্বোচ্চ চন্দ্রগ্রহণ পৌঁছবে বিকেল ৪.৪৮ মিনিটে। গ্রাস চলবে সাত মিনিট ধরে। অর্থাৎ বিকেল ৪.৫৫ মিনিট পর্যন্ত ওই সর্বোচ্চ গ্রাসপর্ব স্থায়ী হবে। নিজের পুরনো ও স্বাভাবিক চেহারে ফিরে পেতে চাঁদের সময় লাগবে আরও প্রায় আড়াই ঘণ্টা, কারণ ৭.১৯ মিনিটে গ্রহণ ছাড়বে। ওই ছাড়ার সময়েই পশ্চিমবঙ্গে গ্রহণ দেখার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু সাইক্লোনের জন্য সেই সময়ের আকাশ ওই দৃশ্য দেখতে দেবে না বলেই মত আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, আন্টার্টিকা উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। ব্লাড মুনের বিরল দৃশ্য দেখা যাবে লস অ্যাঞ্জেলাস, স্যান ফ্রান্সিসকো, হিউস্টন, মেলবোর্ন, সিওল, সাংহাই, টোকিও, হনুলুলু, ম্যানিলা থেকে। শিকাগো, নিউ ইয়র্ক, মন্ট্রিল, টরেন্টো, ব্যাঙ্কক, ঢাকা থেকে দেখা যেতে পারে আংশিক ব্লাডমুন। এছাড়াও বাংলাদেশে সাইক্লোনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই সেখানেও কতটা এই দৃশ্য দেখা যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এরপরের ব্লাড মুন দেখা যাবে প্রায় এক বছর পর। দেখা মিলবে ২০২২ সালের ১৫ ও ১৬ মে’তে।