সওদাগর দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে কুলিকের ঘাটে দুর্গাপূজো আজও মনকারা মানুষের

9

তুষার কান্তি বিশ্বাস, উত্তর দিনাজপুরঃ একটা সময় ছিল যখন কুলিক নদীর উপর দিয়ে বজরা নিয়ে বানিজ্য করতে যেতেন বনিকেরা। আর সেই সুবাদেই রাইগঞ্জের (বর্তমান রায়গঞ্জ) বন্দর ঘাটে বজরা থামিয়ে খানিক জিরিয়ে নিতেন সওদাগরেরা।

এমনি একদিন অধুনা বাংলাদেশের দিনাজপুর থেকে কুলিকের জলপথে বজরা নিয়ে যাবার সময় বন্দর ঘাটে বিশ্রাম নেওয়ার সময় এক সওদাগর দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে কুলিকের ঘাটে দুর্গাপূজো শুরু করেছিলেন। আর সেই থেকেই নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে কয়েকশো বছর ধরে পূজো হয়ে আসছে বন্দর আদি দুর্গাবাড়ীতে। তবে এই ঘটনার কোন সাক্ষ্য প্রমান না থাকলেও লোকমুখে এখনো এই ধরনের অনেক কাহিনীই প্রচলিত রয়েছে। আবার শোনা যায় মহাভারতের যুগের বান রাজাদের আমলে এই পূজোর প্রথম প্রচলন।

যে বেদীতে দেবী দূর্গার পুজো হয় সেই বেদী বানরাজাদের আমলের তৈরি ছোট ছোট ইট দিয়ে নির্মিত বলে কথিত আছে। শুধু তাইই নয়, এই বেদীর উপরে অঙ্কিত চাঁদ ও শঙখের ছবিই এর প্রমান বলে রায়গঞ্জের মানুষের বিশ্বাস। আরো শোনা যায়, পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে এক তান্ত্রিক সন্যাসী এসে এখানে পঞ্চমুন্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘকাল তপস্যার পর এই পুজো শুরু করেছিলেন।

 তবে এখন কুলিক তার নাব্যতা হারিয়েছে। বহুকাল আগেই বন্ধ হয়ে গেছে জলপথে সওদাগরদের বানিজ্য। তবে এই পূজোকে ঘিরে যতই গল্পগাঁথা থাকনা কেন, এই পূজো যে রায়গঞ্জ তথা অবিভক্ত বাংলা এবং পশ্চিম দিনাজপুর জেলার সবচেয়ে প্রাচীন তাতে কোন সন্দেহ নেই।

বর্তমানে রায়গঞ্জের বন্দর আদি দুর্গাবাড়ীর পূজো সর্বজনীন পূজোর রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি জাগ্রত দেবী বলে খ্যাত দুর্গাবাড়ীর দেবীর কাছে বহু দূরদূরান্ত থেকে পূন্যার্থীরা আসেন দূর্গাপুজোয় ভোগ আর অঞ্জলী দিতে। আর যে কারনে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। এই পূজো আদি দুর্গাবাড়ী পূজো নামেই খ্যাত।