রাজবাড়ির কামানের গোলা ফাটানোর আওয়াজ শুনেই কালিয়াগঞ্জ ব্লকের রাধিকাপুর উদগ্রামের দূর্গা পূজার সূচনা

27

তুষার কান্তি বিশ্বাস, উত্তর দিনাজপুরঃ এক সময় সাবেক দিনাজপুরের রাজবাড়ির কামানের গোলা ফাটানোর আওয়াজ শুনেই বর্তমান ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের রাধিকাপুর উদগ্রামের দূর্গা পূজার সূচনা হত। আজ সেই সব শুধুই ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। আজ আর রাজাও নেই, নেই রাজপাটও। কিন্তু আজ যা আছে তা বিভক্ত দুই বঙ্গের সীমান্ত চিহ্নিত করণের কাঁটাতারের বেড়া। কত বছর আগে এই পূজার প্রচলন তা কেউ সঠিক ভাবে বলতে পারে না, কম করে ৩-৪শো বছর পূরানো দূগা পূজা।

ভারতবর্ষ বিভক্ত হবার পর এই রাধিকাপুরের উদগ্রামের দুর্গা মন্দিরের নামে থাকা চল্লিশ বিঘা জমিও চলে গিয়েছে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে। যা রয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্যে। আর এপারে রয়ে গিয়েছে দেবীর মুল মন্দির এবং মন্দির সংলগ্ন ১৩ বিঘা কৃষি জমি। সেই জমিতে চাষাবাদ করে ও ভক্তদের অর্থদানে বর্তমানে দেবী পুজার আয়োজন করা হয়। কিন্তু দুই বঙ্গের বিভাজন উদগ্রামের দুর্গা পূজায় আজও কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি।

 আজও এপার বাংলার উদগ্রামে নিয়ম নিষ্ঠাভরে গ্রামবাসীদের দ্বারা উদগ্রামের মন্দিরে পুজিত হয় দেবী দশভুজা। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াজাল তৈরি হলেও আজও শারদীয়া উৎসবে উদগ্রামের পূজাকে ঘিরে উৎসাহ উদ্দীপনার কোনও খামতি নেই মানুষদের মধ্যে। উদগ্রামের দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ বেশকিছু রিতিরেওয়াজ আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলেছে। সমইয়ের সাথে সাথে ভক্তদের দান করা অর্থে দেবী মন্দির কাচা থেকে পাকায় পরিনত হয়েছে।

ভ্রমণ রসিক বাঙ্গালী পূজার সময় নানান জায়গায় ঘুরে বেড়ালেও পূজোর কদিন এই গ্রামের মানুষ গ্রাম ছেড়ে কেউ বাইরে পূজা দেখতে যান না। সেই সঙ্গে পূজোর কদিন গোটা গ্রামের মানুষ নিয়ম করে নিরামিষ খাবার খান।  পজার দিন গুলিতে চলে মঙ্গলচন্ডীর গান। মঙ্গলচন্ডীর গানের সময় যে সব মায়েদের সন্তান হয় না সেই সমইয় পূজা চলাকালিন নিয়ম অনুসারে কোন শিশুকে সেই মায়ের কোলে দিলে মায়ের ক্রিপায় মহিলা মা হবার সূখ পায় অল্প দিনের মধ্যেই।

শুধু তাই নইয় বছরের অন্যান্ন  সময়ে গ্রামে কারো বাড়িতে কিংবা অন্যকোন শুভ কাজে মায়ের মন্দিরে বিয়ে ও অন্যান্ন সুভ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হইয় এবং আশীর্বাদ না নেওয়া পর্যন্ত কোনও শুভ কাজ সম্পূর্ণ হয় না এই গ্রামে। এই গ্রামের মৃন্ময়ী দেবী দশভুজার পূজাকে কেন্দ্র করে গ্রামের মানুষ যে যেখানেই থাকুক না কেন পূজোর দিন গুলিতে সকলে ফিরে আসেন নিজের বাড়িতে। প্রাচীন এই দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে ভারতবাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উদগ্রামে এখন থেকেই সাজোসাজো রব পড়ে গিয়েছে।