করোনা অতিমারির মধ্যেও সরকারি নির্দেশ মেনে পূজা উদোক্তাদের পূজা করাতে উদ্যোগী পুলিশ

34

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাটঃ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মহারাষ্ট্রে গনেশ পূজা করবার জন্য অনুমতি তেমন মেলেনি। পুরীর রথযাত্রাও হয়েছে সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নম নম করে। অন্যান্য সম্প্রদায়ের ধর্মানুষ্ঠানেও বিধি নিষেধের জালে আটকে গেছে। তবে আনলক ৪ এরপর্বে কেরলের ওনম উৎসবের পর সেখানে করোনা সক্রমন যে পরিমান বেড়ে গেছে সে দেখে বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন বাংলায় দূর্গা উৎসবে মানুষের গা ভাসালে তা নির্ঘাত তা সুপার স্প্রেডার হিসেবে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে।

কিন্তু ওই যে বাংগালীর একটা অপবাদ রয়েইছে হু জুগে। আনলক ৫ এ দূর্গা পূজা পড়ে গিয়ে মানুষ যেন বাধন ছাড়া। মুখে মাস্ক থাকুক আর না থাকুক ভীড় জমিয়েছে বাজার গুলিতে। সে শহর হোক বা গ্রাম গঞ্জের হাট বাজারে সব খানেই চিত্রটা কিন্তু এক।

ইতিমধ্যেই বুধবার মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের একাধীক পূজা উদ্বোধন করেছেন। তার মধ্যে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার ৭ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে। অন্যদিকে বুধবারেই পূজা মরসুমে করোনা যাতে সুপার স্প্রেডার রুপ নিতে না পারে তার জন্য উত্তরবঙ্গের করোনা স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডঃ সুশান্ত রায় জেলার স্বাস্থ্য কর্তাদের নিয়ে উৎসব মরসুমে কি ভাবে এই করোনা স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে জনগনকে সচেতন করা সম্ভব তা নিয়ে একটি বৈঠকও এই জেলায় করে গেছেন। 

একেবারে করোনা বিধি মেনে, এই বারের পূজার আয়োজন। ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের পক্ষে থেকে প্রতিটি জেলা পুলিশ ও পুলিশ জেলার এসপিদের কাছে এবং প্রতিটি পুলিশ কমিশনারেটের সিপিদের কাছে এক বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে ওই সব জেলা পুলিশ, পুলিশ জেলা ও কমিশনারেট নিজ নিজ এলাকায় থাকা প্রত্যেকটি থানায় নির্দেশ দেবে সেই সব থানা এলাকায় থাকা প্রতিটি পূজা কমিটির সঙ্গে বৈঠকে। সেই বৈঠকে পূজা কমিটিগুলি তাঁদের পূজার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন নিজ নিজ থানাকে। থানাগুলি আবার সেই রিপোর্ট জমা দেবে সিপি ও এসপিদের কাছে।

এদিনের নির্দেশিকায় রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়ে গিয়েছে শুক্রবার থেকেই প্রতিটি থানাকে এই কাজ শুরু করে দিতে হবে। সেদিকে লক্ষ রেখেই এদিন করোনা অতিমারির মধ্যেও সরকারি নির্দেশ মেনে পূজা উদোক্তাদের পূজা করাতে উদ্যোগী হল বালুরঘাট থানার পুলিশ।

সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে বালুরঘাট গ্রামীণ এলাকার দূর্গা পূজার আয়োজন করছে কিনা তা নিয়ে বৃহস্পতিবার বালুরঘাট থানায় গ্রামীন এলাকার পূজা উদোক্তাদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক করল পুলিশ। এদিনের এই বৈঠকে হাজির ছিলেন ডিএসপি হেডকোটার ধীমান মিত্র, বালুরঘাট থানার আইসি গৌতম রায় গ্রামীণ এলাকার উদ্যোক্তারা।

ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতির জন্য কি ভাবে প্যান্ডেল করলে দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা থাকবে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেই ব্যাখা অনুযায়ী পূজার কমিটি গুলোর কাছে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ যাতে প্যান্ডেল গুলো খোলা মেলা হয়। অষ্টমির অঞ্জলি দিতে আসলে মানুষের ভিড় বাড়বে।

সেই কারণেই জমায়েত বাড়বে। তাই এই খোলা মেলা প্যান্ডেল করার নির্দেশ। সাথে এই খোলামেলা প্যান্ডেলের মধ্যে বাতাস বইবে, জীবাণু থাকলে তা বেরিয়ে যাবে।

জানা গেছে, আজকের এই বৈঠকে গ্রামীন পূজা উদ্যোক্তাদের বালুরঘাট থানার পুলিশ ও জেলা পুলিশের উচ্চপদধিকারি অফিসাররা সে কথাই বার বার তাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন।