সন্ত্রাসবাদী কার্যকালাপে জড়িত কয়েকজন সেনাও,দেবিন্দর সিং–কে জেরার পরে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

787

ওয়েব ডেস্ক, ১৫ জানুয়ারিঃ দুই জঙ্গির সঙ্গে একই গাড়িতে কাশ্মীরের ন্যাশনাল হাইওয়েতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন উপত্যকার ডিএসপি পদাধীকারী কর্তা দেবিন্দর সিং। আর সেখান থেকে দুই জঙ্গির সঙ্গে তাঁকে হাতেনাতে ধরেছে পুলিশ। আর সেই দুই জঙ্গিকে জেরা করে একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

জম্মু–কাশ্মীরের পুলিশ আধিকারিক দেবিন্দর সিং–কে নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার। উঠে আসছে একের পর এক নয়া তথ্য। গত তিন বছরে ধরে তিনি হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করতেন বলে কবুল করেছেন দেবিন্দর সিং। গ্রেফতারের দিন তিনি হিজবুল জঙ্গি নাভেদ বাবু ও মহম্মদ রফিকে তিনি জম্মুতে নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাও স্বীকার করে নিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, দেশের একাধিক জায়গায় নাশকতার ছক ছিল জঙ্গিদের। পাঞ্জাব, চণ্ডিগড়, জম্মুতে বোমা বিস্ফোরণের মতো ঘটনার ব্লু প্রিন্ট তৈরি করছিল জঙ্গিরা। আর তাতে মদতদাতা হিসাবে কাজ করছিলেন দেবিন্দর সিং এমনটাই দাবি সূত্রের।

জানা গিয়েছে, রাজধানী দিল্লিতে আক্রমণের ছক ছিল দেবিন্দরের সঙ্গে ধৃত দুই জঙ্গির। দিল্লিতে আরও জঙ্গিরা ওই দুই কাশ্মীরি জঙ্গির অপেক্ষায় ছিল। যার একসঙ্গে মিলে এই হামলার ছক কষছিল বলে খবর। প্রসঙ্গত, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায়, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে প্রশাসন। দেবিন্দরের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে এনআইয়ের ৬ সদস্যের একটি দল নেমেছে ময়দানে। এদিকে, দেবিন্দরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে, বেশ কিছু অস্ত্র শস্ত্র। উদ্ধরা হয়েছে একে ৪৭ এর মতো অস্ত্র। যারপর থেকে প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, দেবিন্দরকে জঙ্গি হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এনআইএ–এর জেরায় সেনার আরও কেউ কেউ জড়িয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জেরায় জানা গিয়েছে,কাশ্মীর থেকে ২ জঙ্গিকে নিরাপদে বাইরে বের করে দেওয়ার বিনিময় প্রত্যেক জঙ্গির কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন ডিএসপি দেবিন্দর।

সূত্রের খবর, শ্রীনগরের পর দিল্লিতে এনেও তাকে জেরা করতে পারেন এনআইএর গোয়েন্দারা। দেবিন্দারকে একদফা জেরা করেছেন স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। সংসদ হামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আফজল গুরু তার আইনজীবিকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছিলেন, দেবিন্দর সিংই তাকে এক পাকিস্তানি জঙ্গিকে দিল্লি নিয়ে যেতে বাধ্য করেন। শুধু তাই নয়, রাজধানীতে একটি ঘর ভাড়া করে দেওয়া ও এক গাড়ি কিনে দিতে বাধ্য করেন। ২০০২ সালের সংসদ হামলায় মৃত্যু হয় মহম্মদ নামে এক পাক জঙ্গির। এই মহম্মদকেই দেবিন্দরের নির্দেশে দিল্লিতে এনেছিল আফজল গুরু।