ফাগের নতুন স্পর্শ

212

এই অস্থির, অসংলগ্ন, অসময়েও বঙ্গ প্রকৃতিতে এক নতুন সাজ। ফাগুনের এই সময়ে রঙে, রূপে, রসে, বর্ণে যেন এক অন্য ছটা। শুধু হতাশায় ডুব মেরে থাকায় নয়, অন্ধকারের বৃন্ত থেকে খসাতে হবে বিকৃতের বিষফল। কারণ এই বসন্তেই গাঁথা হয় জয়ের মালা। ‘বসন্ত এসে গেছে’। শুরু হল এনিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন। এই পর্বের পঞ্চম দিনে কলম ধরেছেন লেখিকা অঞ্জনা দে ভৌমিক

অঞ্জনা দে ভৌমিক

এসেছে বসন্ত। দক্ষিণা দুয়ারে বইছে ফাগুন হাওয়া। আকাশে বাতাসে  বইছে সানাইয়ের সুর। বাতাসে ফুলের সুরভি।  মন উড়ছে মেঘের সঙ্গী হয়ে। কোকিলের কন্ঠে বসন্তের আগমনী গান। তরুণ হৃদয়ে লাগে দোলা।  বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানে একে অপরের হাত ধরে হেটে চলা। বসন্তের আগমনে প্রকৃতির স্পর্শে জেগে উঠে পলাশ শিমুল। বসন্ত আসে নতুন কিছু প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে চলার বার্তা নিয়ে। তাই তো কবি বলেছেন “ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত।”

রিক্ত হস্তে চলে গেছে শীত। বসন্ত এসেছে ফুলের ডালি সাজিয়ে। কেটে গেল সব জরাজীর্ণতা। মন জেগে উঠেছে নতুনের আহ্বানে।  রঙীন হয়েছে প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে আমরাও নিজেকে রাঙিয়ে তুলি জীর্ণ শীতের শেষে। এই রঙের ঋতুতে একদিকে গোধুলি রঙা পলাশ, আরেক দিকে রক্ত লাল কৃষ্ণচূড়া।

দক্ষিণের জানালায় মিষ্টি বাতাস আর নরম রোদের স্পর্শ দিয়ে যায় সুখ। যুগে যুগে বারবার নানা রঙে, নানা রূপে, শিল্পীর তুলির আঁচড়ে বসন্ত দিয়ে যায় বাতাসে নতুন বার্তা। বন্দনায়, আরাধনায়, প্রকৃতির লাল নীল হলুদ সবুজের বাহারি ফুল ফাগুনের রঙে রাঙিয়ে দিয়ে যায়। জাগায় বাঙালীয়ানার নবজাগরণ। বসন্ত উৎসবে বাঙালি ছেলে মেয়েরা বাঙালি চেতনা জাগ্রত করতে মেয়েরা শাড়ি ও ছেলেরা পাঞ্জাবি পরে বাহারি রঙে বাহারি বসন্তে। সাজে ফুলের সাজে। মেয়েদের কপালে কুমকুম, পায়ে আলতা। শাড়ির সাথে চুড়ি আর ফুলের গয়নায় অপরূপা নারী।

বসন্তকে রঙে রঙে রঙিন করে তোলে যে উৎসব তা হলো দোলোত্সব বা হোলি। ফাগের রঙিন স্পর্শে হিন্দোলিত বাঁধন ছেড়া প্রাণ। আবিরে রাঙা বসন্তের উথাল পাথাল উচ্ছাসি হাওয়ায় ভেসে যায় মন।  এক ঝলক মিঠে হাওয়া ভালো লাগার পরশ বুলিয়ে দেয় হৃদয়ের অলিগলিতে। পলাশ শিমুলে চলে আগুনের খেলা। ঝরা পাতায় নুপূর নিক্কন প্রকৃতির মিলনে। প্রকৃতি সাজে শীতের রুক্ষ দিনের অবসান ঘটিয়ে জেগে উঠে নতুনভাবে। বসন্ত তখন  জাগ্রত প্রাণে প্রকৃতির নান্দনিক মোহনায় ভেসে ফাগুনের রঙ হৃদয়ে এঁকে দেয় এক অনন্য অনুভূতি।  জীবনের সব দুঃখ বেদনা  ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়ে বাসন্তীর দক্ষিণা হাওয়া আনে জীবনের পূর্ণতা।