মাথাভাঙ্গায় যুবক খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাল মৃত যুবকের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা

174

মাথাভাঙ্গা, ৩ আগস্টঃ মাথাভাঙ্গায় এক যুবকের খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাল মৃত যুবকের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের মাদ্রাসা চৌপথি এলাকায়। এদিন আন্দোলনকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে মাথাভাঙ্গা-ময়নাগুড়ি ১৬ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধের জেরে রাস্তার দুদিকে প্রচন্ড যানজট তৈরি হয়।

ওই অবরোধের খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন মাথাভাঙ্গা থানার আইসি প্রদীপ সরকার। সে সময়ই অবরোধকারীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে পুলিশ। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অবরোধও তুলে নেওয়া হয়। রাজ্য সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, প্রায় ২০-২১ দিনে আগে রাজ্য সড়কের পাশের নয়ানজুলি থেকে ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতের পরিবারের তরফে কয়েকজনের নামে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল মাথাভাঙ্গা থানায়। কিন্তু এত দিন হয়ে যাওয়ার পরও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি বলে অভিযোগ। বারবার পুলিশকে বলেও লাভ হয়নি। মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই তারা বাধ্য হয়ে এদিন মৃতের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এবিষয়ে মৃত যুবকের বাবা নূর ইসলাম মিয়াঁ বলেন, আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। অথচ লিখিত অভিযোগ জানানোর পরেও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি। পুত্রহারা বাবা হিসাবে পুলিশের কাছে কোনও বিচার পাই নি। তাই বিচারের দাবিতেই আন্দোলনে নেমেছি।

স্থানীয় এক যুবক জানান, খুনের ঘটনায় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছেনা। পুলিশকে সাধারণ মানুষ কী করে ভরসা করবে ? ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনেও নামা হবে।

এবিষয়ে মাথাভাঙ্গা থানা পুলিশের দাবি, খুনের অভিযোগের ঘটনায় দুই অভিযুক্তের মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।