মতুয়া ও অনুকুল সম্প্রদায়ের ভক্তরা আসলে বুকে স্থান দেবঃ মমতা

132

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনাঃ সিএএ-এনআরসি-এনপিআর এর প্রতিবাদে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে জনসভা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধোপাধ্যায়৷ সেই সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন তিনি৷ কোনও মতেই রাজ্যে এনআরসি এবং সিএএ লাগু করা হবে না বলে ফের একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম বনগাঁয় পা রাখলেন তিনি। এবং মতুয়াদের উদ্দেশ্যেই তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকার কোনওভাবেই রাজ্যে সিএএ লাগু করবে না।

নয়া নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার পর থেকেই মতুয়া সম্প্রদায় নিয়ে দড়ি টানাটানি আরও প্রকট হয়েছে। তাদের সহজেই নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট ব্যাঙ্ক অটুট রাখতে মরিয়া বিজেপি। তাই সিএএ সমর্থনে প্রচার করতে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় ঘনঘন ছুটছেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভা করে জানিয়ে দেন, বাংলায় হবে না এনআরসি, এনপিআর বা সিএএ।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি তোমার কত শক্তি, আমি দেখতে চাই৷ ভোটের জন্য অনেকে মিথ্যা কথা বলে৷ অনেকে গন্ডগোল পাকান,আমি সেই দলে নেই৷ মতুয়া ও অনুকুল ভক্তরা আসলে বুকে স্থান দেব।’

এদিন প্রথমে কিছুক্ষণ বড়মা-র সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সময় ব্যায় করেন মমতা। চেষ্টা করেন মতুয়া আবেগকে তালুতে বন্দি করতে। এর পর সোজা চলে যান এনআরসি, এনআরসি প্রসঙ্গে। বলেন, ‘এনপিআর হল এনআরসি-র প্রথম ধাপ। আমার বুকের পাটা আছে, তাই এরাজ্যে এনপিআর  করতে দিইনি। এখানে সবাই নাগরিক। কাউকে আমি ঘরছাড়া হতে দেব না।‘ মোদীকে মমতার প্রশ্ন, ‘সবাই যদি নাগরিক না হয় তাহলে কাদের ভোটে জিতে এলেন আপনি?’

এদিনও মমতা দাবি করেন, যাদবপুরের সাংসদ থাকাকালীন উদ্বাস্তুদের জমির অধিকার পাইয়ে দিয়েছিলেন তিনি। যদিও মমতার এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস ও বিজেপি। তাদের দাবি, জমি ও ভূমিরাজস্ব সম্পূর্ণরূপে রাজ্যের এক্তিয়ারের বিষয়। সাংসদ কী ভাবে কাউকে জমির মালিকানা পাইয়ে দিতে পারেন? যদিও এই নিয়ে আজও কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তৃণমূলনেত্রী।

অসমের এনআরসি-র কথা উল্লেখ করে এরাজ্যের হিন্দুদের সতর্ক করেন মমতা। বলেন,‘অসমে এনআরসি -তে ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ গিয়েছে। তার মধ্যে ১২ লক্ষ লোকই হিন্দু। এনআরসি-র আগে বলেছিল কোনও হিন্দুর নাম বাদ যাবে না।’

প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ কেন্দ্র হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। সেখানে মতুয়া ঠাকুরবাড়ির বড় বউমা মমতাবালা ঠাকুর হেরেছেন তাঁরই দেওরের ছেলে শান্তনু ঠাকুরের কাছে। এরপর মোদী সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তে উত্তর ২৪ পরগনার উদ্বাস্তু মহল্লায় ক্রমশ সমর্থন হারাচ্ছে তৃণমূল। ক্যা-র ফলে মতুয়াদের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের দাবি পূরণ হতে চলেছে। ফলে মতুয়াদের গড়ে জনসমর্থন ধরে রাখা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের কাছে।