যশ এর আতঙ্কে জেরবার কৃষকরা, সংকটে ধান ও আম সহ একাধিক ফসল

33

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনাঃ গত বছর আম্ফানের ভয়াবহতাকে কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার আসতে চলেছে ইয়াশ, যা নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা রয়েছে তুঙ্গে। হাওয়া অফিসের সতর্কতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত রকম সতর্কতামূলক ব‍্যবস্থা নিতে শুরু করেছে জেলা তথা রাজ‍্য প্রশাসন।

একে লকডাউন তার উপর আমফানের ভয়াবহতাকে কাটিয়ে উঠে যখন চাষীরা আবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছিল। ফের তখন গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো হাজির হয়েছে ইয়াশের ভ্রুকুটি। গতবছরের আম্ফনের ফলে বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর, বসিরহাট-১, বসিরহাট -২, বাদুড়িয়া, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, মিনাখাঁর মতো বিস্তীর্ন অঞ্চলের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার উপর লকডাউনের ফলে এক বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কৃষকসমাজ, সেখানে আমফানের মতো হাওয়া দানব তাদের অর্থাভাবের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়।

বিপুল ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি যেখানে ভারতের জাতীয় ফল আম,সেই আমেরও বিপুল পরিমাণে ক্ষতি হচ্ছে। যার ফলে ভীষণভাবে দুশ্চিন্তায় রয়েছে বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবনের চাষী সমাজ।

একজন অসহায় চাষী তিনি বলেন, গতবছর আম্ফান ঝড়ে বিপুল পরিমাণে ফসল নষ্ট হয়েছিল, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছিল আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছিলাম। তারপর ঝড় থেমে যাবার পর মহাজনের কাছ থেকে আবার টাকা ধার নিয়ে কোন রকমের বেঁচে রয়েছে, এ বছর আবার ইয়াশ নামে ঘূর্ণিঝড় আবির্ভাব হচ্ছে শুনতে পাচ্ছি এই ঝড়ের গতিবেগ আম্পানের থেকেও বেশি, যদি এই ঝড় আবার আমাদের উপর আঘাত আনে তাহলে আমাদের বাচার কোন রাস্তা থাকবে না, আমাদের ইছামতি নদীর জলে ডুবে মরতে হবে।

আরেকজন আম চাষী বলেন, এবছর আমের ফলন হয়েছে খুব ভেবেছিলাম দুটো পয়সা পাবো, কিন্তু করোনার কারণে গোটা রাজ্য লকডাউন চলছে গাছ থেকে আম পেরে বাজারে নিয়ে যাওয়ার মতন উপায় নেই।কেননা বাজার খোলা মাত্র তিন ঘন্টা,তাই আম বিক্রি হচ্ছে না, যেটুকু বিক্রি হচ্ছে তাতে দাম পাচ্ছি না। আম পেকে গাছেই পচে যাচ্ছে, এ এক বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তাই সরকার যদি আমাদের দিকে একটু তাকাই তাহলে আমরা হয়তো বেঁচে থাকতে পারবো।

আর একজন চাষী তিনি বলেন, গতবার আম্ফান ঝড়ে আমাদের কোন ফসল বাঁচাতে পারেনি, নদী বাঁধ ভেঙে নোনাজল প্রবেশ করেছিল পাট খেতে, সমস্ত পাট নষ্ট হয়ে যায়। সেবার আমরা দেখেছি আমাদের কোন চাষীরা একটু ও ফসল বাঁচাতে পারেনি,সেইবার চাষীদের কান্না দেখেছিলাম। তারপর সোনাদানা বন্ধক দিয়ে আবার নতুন করে চাষবাস শুরু করেছিলাম, কিন্তু এ বছর আবার ইয়াশ নামে ভয়ানক ঘূর্ণিঝড় প্রবেশ করছে আমাদের রাজ্যে, এর শেষ পরিণাম কি হবে কেউ জানে না।