অবশেষে কাটল জট,শান্তিনিকেতনে হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা

75

নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিনিকেতনঃ অবশেষে প্রাথমিকভাবে জট কেটে শান্তিনিকেতনে হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। তবে এই বছর মেলা হচ্ছে চারদিনের।এছাড়া, স্টল বুকিং করতে হবে অনলাইনে। পরিবেশ আদালতের কথা মাথায় রেখে এবার পৌষমেলায় একগুচ্ছ বিধিনিষেধ থাকছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে। শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা প্রধানত ব্রাহ্মমেলা হিসাবে পরিচিত।

১৮১৮ সালে ৮ মার্চ মহর্ষি ন্যাস বা ট্রাস্ট ডিডে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পৌষমেলা সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ করে যান, শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট প্রতি বছর পৌষমেলা করবে। মদ্যপান আমোদ, মাংস ব্যতীত পৌষমেলা হবে। এই মেলায় যেটা লভ্যাংশ থাকে সেটি আশ্রমের উন্নয়নকল্পে ব্যবহৃত হয় ডিড অনুযায়ী। কিন্তু এইদিকে দিন দিন মেলার পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে এই মেলা আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন। এত বৃহৎ মেলা পরিচালনা করার মত পরিকাঠামো শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের নেই। তাই প্রতিবছরই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষই মেলার সমস্ত দায় নিয়ে থাকে।

এইদিকে, পৌষমেলায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এই মর্মে পরিবেশ আদালতে মামলা রুজু করেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত। ২০১৬ সাল থেকে মেলা পরিচালনায় একাধিক বিধি নিষেধ আরোপ করে পরিবেশ আদালত। ২০১৭ সাল থেকে ভাঙা মেলা রুখতে পৌষমেলাকে ছয় দিনের করে দেওয়া হয়। তবে এবার বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ একটি বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, পৌষমেলা পরিচালনা করার মত পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ই এত বৃহৎ মেলা পরিচালনা করে না। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ পৌষমেলা পরিচালনা থেকে হাত তুলে নেওয়ায় প্রায় অনিশ্চয়তার মুখে ছিল মেলা। কারণ,শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের মেলা পরিচালনার মত লোকবল বা পরিকাঠামো কোনওটাই নেই। তবে কী হবে পৌষমেলার ভবিষ্যৎ, সে নিয়েই ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল।

অবশেষে সেই জট কাটল। একটি বৈঠকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে পৌষমেলা হচ্ছে৷ তবে আগের মত মেলা চলবে চার দিন৷ ভাঙা মেলা কোনও ভাবেই রাখা যাবে না। রাখলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও মেলার স্টল বুকিং সম্পূর্ণ অনলাইনে হবে । যা বিগত পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করেও কর্যকরী করতে পারেনি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এবার অনলাইনে স্টলের প্লট বুকিংয়ের সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য তথা শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের ট্রাস্টি সবুজকলি সেন জানান, “মেলা হবে, সেনিয়ে কোন দ্বিমত নেই। তবে মেলা ছয়দিনের জায়গায় হবে চার দিন, যেটা আগে হয়ে থাকতো। চারদিন মেলার শেষ দিন উঠে যাওয়ার জন্য।”