অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা, চিন্ততি পরিবার

36

বিশ্বজিৎ মন্ডল, মালদাঃ বাবা প্রতিবন্ধী। তেমন কাজ করতে পারেন না। সংসারের হাল ধরতে বাবার সঙ্গে মাটি কাটার কাজ বা দিনমজুরি করতে যেতে হয়। আর পড়াশুনার খরচ যোগাতে সন্ধ্যাবেলা টিউশন পড়াতে হয় গ্রামের ছোট ছেলেমেয়েদের। তাও ঠিকমতো টাকা মেলা না। যা আয় হয় তাতে দু বেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না। নিজেকে কাজ করতে হওয়ায় স্কুলও নিয়মিত যাওয়া হয়ে উঠত না। রাতে কয়েকঘন্টা পড়াশুনা করার সময় মিলত। কিন্তু মনের জেদ আর মেধা থাকলে যে সব অসম্ভবই সম্ভব তা দেখিয়ে দিয়েছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের খরমপুর এলাকার রাহুল ঘোষ।

তুলসিহাটা হাই স্কুল থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল সে। কলা বিভাগে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে সে। তবে ভালো ফল করলেও আর পড়াশুনা হবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বিজয়।

হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের খরমপুরে রাহুলদের বাড়ি। ভাঙাচোরা একটাই মাটির ঘর। দরজা, জানালা তৈরি করার সামর্থ্য হয়নি। তাই দরজার সামনে পর্দা ঝুলিয়ে কোনও রকমে দিন কাটাচ্ছেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রাহুল ছোট।

বাবা সুভাষ ঘোষ বেশি কাজ করতে পারেন না। তাই পড়াশুনা বাদ দিয়ে দাদা চন্দন ভিন্ রাজ্যে শ্রমিকের কাজে চলে যান। লকডাউনে কাজ হারিয়ে চন্ডীগড়েই আটকে রয়েছেন তিনি। আর দিদি মণীষা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলেও অর্থাভাবে আর পড়তে পারেননি। কেননা গত বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলেও অর্থাভাবে দিদির আর পড়াশুনা হয়নি। ফলে সংসারের অনটন সামাল দিতে রাহুলকেও মাঠে ছুটতে হয় কাজের জন্য। আর কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে স্কুলে যেত সে। স্কুলও ১২ কিলোমিটার দূরে। সাইকেলে চেপে ১২ কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে হত। এত বাধা পেরিয়েও রাহুল ৪৬০ নম্বর পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। রাহুল বাংলায়-৮৮, ইংরেজিতে ৮৩, এডুকেশনে-৯৬, ভূগোলে-৯৭ ও দর্শনে ৯৬ পেয়েছে।

কিন্তু ভালো ফল করলেও অভাবি পরিবারটি কেন এতদিনে সরকারি কোনও সুবিধা পায়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার বাবার আজও প্রতিবন্ধী ভাতা মেলেনি। একটা ট্রাই সাইকেলও মেলেনি। আবাস যোজনায় নাম থাকলেও ঘর মেলেনি বলে অভিযোগ।

রাহুলের মা মীরা ঘোষ বলেন, ছেলেটাকে ভালো করে খেতেও দিতে পারিনা। জানি ওর আর পড়া হবে কি না। রাহুল বলেন, ভবিষ্যতে বিডিও হওয়ার ইচ্ছে আছে। কিন্তু আর পড়াশুনা হবে কী না সেটাই বুঝতে পারছি না।

তুলসিহাটা হাই স্কুলের প্রধান হরেন্দ্র নাথ পাল বলেন, রাহুল যা ফল করেছে তাতে আমরা খুশি। ওকে সবরকম সাহায্য করা হত। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিডিও অনির্বান বসু বলেন, রাহুলের বাবা যাতে ভাতা পান সেই ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আরও সরকারি যা সুবিধা রয়েছে তাও যাতে পরিবারটি পায় তাও প্রশাসনের তরফে দেখা হবে।