অসহিষ্ণুতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখায় বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে এফআইআর

94

ওয়েব ডেস্ক, ৯ অক্টোবরঃ সম্প্রতি দেশ জুড়ে উঠেছে হিন্দুত্বের ঝড়, এর পাশাপাশি উঠছে জয় শ্রীরাম ধ্বনি। শুধু তাই নয় ঘটছে মব লিঞ্চিংও। বর্তমানে এই বিষয়টির হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিন দিন এই মক লিঞ্চিং সহ অসহিষ্ণুতা ঝড় গ্রাস করছে গোটা দেশকে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন সারা দেশের বুদ্ধিজীবী মানুষেরা। সম্প্রতি বিহারে ঘটে যাওয়া গণপিটুনির প্রতিবাদ জানিয়ে সারা দেশ থেকে ৪৯ জন বুদ্ধিজীবী মানুষ চিঠি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।

যাদের মধ্যে ছিলেন চলচিত্র জগতের অপর্ণা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অনুরাগ কাশ্যপের মত খ্যাত নামা ব্যাক্তিত্বরা । আর এই চিঠি দেওয়ায় ঘটল বিপত্তি, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে দায়ের করা হল এফআইআর। দেশদ্রোহিতা, দেশবাসীকে প্ররোচনা দেওয়া ও বিশেষ ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবহার সহ একাধিক বিষয়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল ওই ৪৯ জন বুদ্ধিজীবী ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই চলচিত্র জগতের ব্যাক্তিত্ব। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করারও অভিযোগ আনে প্রশাসন। তবে এই সকল বুদ্ধিজীবী মানুষদের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয় আরও একটি চিঠি। যাতে স্বাক্ষর করেছেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপারের মত ব্যাক্তিত্বরা।

এই নতুন চিঠিতে সকল স্বাক্ষরকারীরা জানতে চেয়েছেন তাদের ৪৯ জন সহকর্মীরা দেশে হয়ে চলা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। একজন দায়িত্বশীল নাগরিকদের কাজটা তাঁরা করেছেন। দেশে হয়ে চলা মব লিঞ্চিং এর ঘটনায় তাঁরা যথেষ্ট চিন্তিত বুদ্ধিজীবী মহল। আর সেই কারণেই তাঁরা চিঠি পাঠিয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। তবে কেন এই দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হল তা বুঝে উঠতে পারচ্ছেন না তাঁরা ।

এবিষয়ে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ জানান, “স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সকলে পদক্ষেপের নিন্দা করছি। আমরা মনে করি, এঁরা যা বলেছেন তা একদম ঠিকই বলেছেন। যেকোনও সমাজ সচেতনমনস্কই মানুষ ক্রমাগত ঘটে চলা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতেই পারেন। এটা তাদের নৈতিক কর্তব্য। আরও বিশিষ্টজনেরা আগ্রহ দেখিয়েছেন চিঠিতে সই করার জন্য। প্রশাসন পিছু না হটলে বিচার চেয়ে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।