ফুলহার নদীতে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ ১০টি ঘর,আতঙ্কিত ঘরছাড়া এলাকাবাসী

49

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মালদা: ফুলহার নদীর দাপটে মানিকচক ব্লকের শংকরটোলা এলাকায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা নতুন বাসস্থানের খোঁজে অন্যত্র সরে যেতে শুরু করেছে। বাড়ির পাকা দেওয়ালের ইঁট ভেঙে, টিন, টালির চাল খুলে সরতে শুরু করেছে ওই এলাকার বহু পরিবার। ভাঙনের জেরে ফুলাহার গিলে খেয়েছে দশটি বাড়ি এবং একটি শিব মন্দির। শনিবার সকাল থেকে জেলা সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রণব কুমার সামন্ত সহ সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তা সহ জন প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করেন। আপাতত মাটির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করেছে সেচ দপ্তর। যদিও সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা ভাঙন প্রতিরোধের স্থায়ী কাজের দাবি করেছেন, দায়সারা ভাবে বাঁধ মেরামতির কাজ করলে কোন সূরাহা হবে না বলেও অভিযোগ করেন ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত শংকরটোলা গ্রামের বহু মানুষ।

মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল বলেন, হঠাৎ করে ফুলহার নদীর দাপটে শংকরটোলা গ্রামের বাঁধের অংশে ভাঙন হয়েছে। ওই এলাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মাটির বস্তা ফেলে আপাতত বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন পরিস্থিতি তদারকিতে রয়েছেন সেচ দপ্তরের অফিসার, ইঞ্জিনিয়ারেরা।

এদিকে শনিবার সকালে শংকরটোলা  এলাকার বাঁধ সংলগ্ন বহু বাড়িঘর, আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলেছেন বাসিন্দারা। এমনকি যে কোন মুহূর্তে নতুন করে ভাঙ্গন হলে তলিয়ে যেতে পারে অসংখ্য ঘর বাড়ি। সেই পরিস্থিতির আগাম আঁচ করে এলাকার বাসিন্দারা পাকা ইটের দেওয়াল ভেঙে, টালি, টিনের ছাদ খুলে সরানোর কাজ শুরু করেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক মোত্তাকিন আলম।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেকোনো পরিস্থিতিতে আবার বাঁধ ভাঙতে পারে। গ্রামে জল ঢোকার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। অসময়ে অকাল ভাঙ্গন এবং বন্যা যদি হয় তাহলে গোটা মথুরাপুর ভেসে যাবে। বহু মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘুমাতে পারিনি। প্রশাসন দ্রুতগতিতে বাঁধ মেরামতির কথা জানিয়েছে ঠিকই। কিন্তু দায়সারা ভাবে কাজ করলে চলবে না। বোল্ডার পিচিং করে স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার করার আমরা দাবি জানিয়েছি।

যদিও সেচ দপ্তরের এই কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূল নেত্রী সাবিত্রী মিত্র। তিনি বলেন, এলাকার একটি শিবমন্দির তলিয়ে গিয়েছে, বাড়িও তলিয়েছে। ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কিছু করার নেই। দশ থেকে বারোটা বাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। যে কাজ করা তা পর্যাপ্ত নয়, এই কাজে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব নয়, আজই মুখ্যমন্ত্রীকে সমস্ত বিষয় জানাবো।

সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে ফুলহার নদীতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এরপর নদীর জল কমতে থাকায় হঠাৎ করেই এই ভাঙ্গন হয়েছে। বাঁধ সংলগ্ন নদীতে আন্ডার কারেন্ট মাটি সরিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে ধস নামছে।