সিতাইয়ে ৮ দিন ধরে স্বামীর বাড়ির সামনে ধর্নায় স্ত্রী, পথে নামলেন ছাত্র ও মহিলারা

670

দিনহাটা ২৩ অক্টোবরঃ সংসার করার দাবী নিয়ে এক গৃহবধূর ধর্নায় বসার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এবারে গ্রামের মহিলা ও পড়ুয়ারা এক হয়ে পাশে এসে দাঁড়ালো ধর্নায় বসা ওই গৃহবধূর। দিনহাটার সিতাই ব্লকের চামটা অঞ্চলের পশ্চিম বালাপুখুরি এলাকায় এক গৃহবধূকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির সকলে এখন বেপাত্তা। কিন্তু ফের সংসারে ফিরিয়ে নেবার দাবীতে গত সাতদিন ধরে ওই বাড়ির সামনে রীতিমত মশারি খাটিয়ে ধর্নায় বসেছেন ওই গৃহবধূ।

জানা গেছে, প্রায় গত ৬ মাস আগে চামটার বালাপুখুরি এলাকার মিঠুন মিয়াঁর সাথে প্রেম করে বিয়ে হয়  চামটা গ্রামের গিরিধারি বাজারের সংলগ্ন এলাকার মোফিয়া খাতুনের। তাদের স্কুল জীবন থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়েরর পর থেকেই শ্বশুর বাড়ি থেকে মেনে নেয়নি মোফিয়াকে। শেষ পর্যন্ত তাকে বাড়ি থেকে বেড়ও করে দেওয়া হয়। কিন্তু নাছোড় মোফিয়া শ্বশুর বাড়িতে সংসার করার দাবীতে ধর্নায় বসে পড়েন।

ঘটনায় নতুন মাত্রা দিয়েছে বুধবার। এইদিন চামটা নারী ও ছাত্র সমাজের উদ্যোগে মোফিয়াকে স্ত্রীর সম্মান ফিরিয়ে দেবার দাবিতে এলাকায় মিছিল করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাদের দাবী যে কোনো মূল্যে মোফিয়াকে ওই সংসারে ফিরিয়ে নিয়ে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে হবে।

এদিনের আন্দোলন প্রসঙ্গে আন্দোলনকারীদের পক্ষে রুবিনা খাতুন বলেন, আমরা চাই ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হোক। নারীরা সমাজের খেলনা নয়, তাদেরকে যোগ্য অধিকার দিতে হবে। তাই আমরা চাই মোফিয়াকে সংসারে ফিরিয়ে নিতে হবে। পচ্ছন্দ নয় বলে তালাক আমরা মেনে নেব না। এদিকে এ ঘটনা নিয়ে ওই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লেও মিঠুন এবং তার পরিবারের কেউ বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রাশেদা বিবি জানান, এনিয়ে একাধিক বার সালিশি সভা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ওই গৃহবধূ তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে কোনো রকম আইনি ব্যবস্থা নিতে না চাওয়ায় সমস্যা সমাধানে প্রশাসনও এগোচ্ছে না। তবে এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চাইছি আমরাও।