রয়্যাল বেঙ্গল রহস্যের কিনারা করতে মোবাইল ট্র‍্যাকিং করে জলপাইগুড়িতে এলেন বনআধিকারিকেরা

216

জলপাইগুড়ি, ৩০ অক্টোবরঃ রয়্যাল বেঙ্গল রহস্যের কিনারা করতে মোবাইল ট্র‍্যাকিং করে আসাম থেকে জলপাইগুড়িতে এলেন বনআধিকারিকেরা।

প্রায় নয় মাস আগে আসামের মানস ন্যাশানাল পার্কের ৫৯ নম্বর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পোচিং হয়। কয়েকমাস আগে অসমের শ্রীরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫জনকে গ্রেফতার করে রাজ্যের টাস্কফোর্স এর প্রধান সঞ্জয় দত্ত। ধৃত পাঁচ জনের থেকে মোবাইল উদ্ধার উদ্ধার হওয়া মোবাইলে একটি রয়্যাল বেঙ্গলের চামড়ার ভিডিও এবং বেশ কিছু হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ ও প্রচুর ফোন নম্বর পায় টাস্কফোর্স। সমস্ত নথি নিয়ে চোরাশিকারি ও পাচারকারীদের গতিবিধি জানতে মোবাইল ট্র‍্যাকিং শুরু করে  টাস্ক ফোর্স। গ্রেফতার করা হয় আরো তিন জনকে। এদের জেরা করে খবর পাওয়া যায় বাঘের চামড়াটি রয়েছে ভূটানেই এবং তা পাচার করা হবে।

এরপর ভূটানের পাচারকারীদের মোবাইল ট্র‍্যাকিং করে জানা যায় ওই চামড়া ৩২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হবে নেপালে। পাচারকারীদের দল অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখ অবৈধ চোরাচালান দ্রব্যাদি নিয়ে ভূটান থেকে ডুয়ার্সের হাসিমারা হয়ে শিলিগুড়ি যাবে বলেও জানা যায়। এরপর ১৫ অক্টোবর দিনভর অপেক্ষা করে বিকাল ৫টা নাগাদ মহিলা সহ জনা সাতেকের দলটি হাসিমারা চৌপট্টিতে এলে দুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় টাস্কফোর্স। কয়েকজন মহিলা সহ বাকি পুরুষেরা পালিয়ে যায়। উদ্ধার হয় প্রায় ১৪ ফুটের রয়্যাল বেঙ্গল বাঘের চামড়া,মাথার খুলি, হাড় ইত্যাদি। দুই পাচারকারী ভুটানের বাসিন্দা। এদের মধ্যে একজন ভূটানের প্রাক্তন সেনা।

আসাম থেকে ফরেস্ট অফিসাররা গত তিন দিন ধরে জলপাইগুড়ি থেকে রয়্যাল বেঙ্গলের চামড়া সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি ধৃত দুই ভূটানি নাগরিককে গ্রেফতারের জন্য জলপাইগুড়ি আদালতে আবেদন করেছেন। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ ও অসম মিলিয়ে মোট ১১ জন আসামী গ্রেফতার হয়েছে।