বনভোজন, যৌথতায় ভাগ করে নেওয়া উষ্ণতা

271

শীতের হাওয়ায় লাগল নাচন। বঙ্গজ ঋতুতে শীত একটা বড় ভূমিকা পালন করে। এই শীতের আমেজ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শীত আতঙ্কও। তবুও শীত শেষেই আসবে বসন্ত। ফুলে ফলে পল্লবিত হবে মানুষের হৃদয়। এই শীতে মানুষ যেন খুঁজে পায় এক অন্য অনুভূতি। শীতের আমেজে রকমারি খাওয়া দাওয়া, রকমারি পোশাক যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শ্লথ হয়ে যাওয়া কাজের গতিও। সব মিলিয়ে শীত যেন উপভোগেরই।

বছর শেষে ঠাণ্ডার প্রকোপ থাকে বেশী।যেন জাঁকিয়ে শীত। কুয়াশা ভেদ করে বেরাতে যাওয়া থেকে শুরু করে বনভোজন। আহারের নানা বাহার এই সময়েই পেয়ে থাকে এই বাংলার মানুষ। বর্ষবরণের প্রস্তুতি হয় এই সময়েই। সব মিলিয়ে শীত যেন উৎসবের মরসুম। এই শীতে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন “শীতের গীত”। আজ তার প্রথম দিন, এই পর্বে লিখেছেন কবি নীলাদ্রি দেব।

নীলাদ্রি দেব

শীত মানেই ফ্যাকাশে অ্যালবামের রঙিন হয়ে ওঠা নস্টালজিয়া আর তাপমাত্রার ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া। বছর শেষের মন খারাপের পাশে আনন্দ উৎসবের রেশ নিয়ে নতুনের আহ্বান। ঝরাপাতার পাশে পোস্টকার্ড রেখে আসা। সবাই মিলে জড়িয়ে জড়িয়ে থেকে ওম নেওয়া, যৌথতার।

আর তার সাথে অবশ্যই পিকনিক কুয়াশার চাদর ডিঙিয়ে বন্ধুতার পরিধিতে সামান্য হই হই জীবন, বনভোজন, একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রিয় কোন মানচিত্রে, প্রিয়জনদের সাথে কিছুটা সময়। পিকনিক বললেই উত্তরের প্রতিটি মানুষের মত আমারও প্রথম মনে হয় পাহাড়, নদী, ঝোরা, উঁচু উঁচু গাছের মিছিল। ডাউন মেমরি লেনে এগিয়ে গেলে চোখে ভাসে কিশোরবেলার, যুবকবেলার পিকনিকের মাঝে এসে যাওয়া অজস্ৰ দিনবদলের খতিয়ান। যদিও সব পরিবর্তনই তো সময়ের ফসল। তাই এক থেকে যাওয়া উন্মাদনাগুলো সেরা সম্পদ বলে মনে হয়। রান্নার প্রতিটি পদের সাথে যে ধোঁয়ার গন্ধ চিনিয়ে দেয় শীত ও পিকনিকের স্পর্শ, তার কাছে ঋণ বেড়ে যায়। স্বাদ তো জিভে নয়, জীবনে যা খুঁজছি আমরা সবাই।

শীতের বনভোজনের শেষে ধিক ধিক আঁচে আস্ত উনুনের পাশে সেঁকে নিতে থাকি যাবতীয় ব্যথা। এভাবেই পুঁইপাতাশাক আর বেঁচে থাকার টুকরো রসদ জড়িয়ে রাখতে থাকি আস্তিনে। শুধু অল্প কিছু দিক গভীর নাড়া দেয়, মনে হয় এভাবে কেন? শব্দ দূষণ, মাটি দূষণ, জল বা দৃশ্যদূষণ নয়. আসলটা মনোদূষণ. ছেঁয়ে আছে বৃহত্তর পরিসরে। যে প্রিয় জায়গায় একবার ছুটে যাই, তার দিকে আরও অনেকেই তো এসে দাঁড়াতে চায়/চাইবে কোন না কোন দিন। তবে আমি কেন সুন্দর সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখব না ঐ সব ‘স্পট’? খালি চোখে দেখলেও তো স্পষ্ট বুঝতে পারি আমরা, ‘স্পট’ ঘিরে কত কত স্পট, ডার্ক সার্কেল। আকর্ষণে ছুটে গিয়ে ধ্বংসখেলার শরিক হতেই হবে আমাদের?

শুধু প্রশ্ন নয় উত্তর, সমাধান খুঁজে নিতে হবে নিজেদেরই তাই পরিবেশের দিকে নজর রেখে নান্দনিকতা বজায় রাখা রুচিশীলতার পরিচয় বহন করে, করবে বলে ব্যক্তিগত বিশ্বাস।বাকিটা তো অবশ্যই সুন্দরের আরাধনা আর যৌথতার জয়।