সাবেক ছিট নাগরিকদের বিশেষ পরিচয়পত্র দেবার দাবী বিশিষ্টজনেদের

80

কোচবিহার ২০অক্টোবরঃ ঘুরে ফিরে সেই এনআরসির ইস্যুই সামনে এল সাবেক ছিট নাগরিকদের ক্ষেত্রেও। ভারত বাংলাদেশের মধ্যে ছিট মহল চুক্তি কার্যকর হওয়ায় যুগ যন্ত্রনার অবসান হলেও নব্য ভারতীয়রা নরক যন্ত্রনায় ভুগচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ আনল বাংলার বিশিষ্টজনেরা। রবিবার কোচবিহার শহরে সাবেক ছিটবাসীদের সাথে একটি বৈঠক করেন মানবাধিকার সংগঠন মাসুম। মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চলচিত্র জগতের অভিনেত্রী তথা পরিচালক অপর্ণা সেন, বোলান গঙ্গোপাধ্যায়, মুদার পাথারিয়া প্রমুখ। শনিবার এই প্রতিনিধি দলটি কোচবিহার জেলার দিনহাটায় অবস্থিত বাঁকালি ছড়া, করলা ২ ,এনক্ল্যাভস সেটেলম্যাণ্ট ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন।

এইদিনে এই বিশিষ্ট জনেরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, সাবেক ছিট এলাকায় উন্নয়নের কাজ সঠিক ভাবে হয়নি। এই সাংবাদিক সম্মেলনে মাসুমের সম্পাদক কিরীটি রায় অভিযোগ করে বলেন, সাবেক ছিট মহল এলাকা উন্নয়নের জন্য যে কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্ধ হয়েছে তা অন্য খাতে ব্যয় করেছে রাজ্য। এর ফলে আজও সাবেক ছিট এলাকার সর্বত্র পরিকাঠামো গত উন্নয়ন সঠিক ভাবে হয়নি। এই সাংবাদিক বৈঠকে অভিনেত্রী অপর্ণা সেন বলেন, প্রান্তিক এলাকার এই মানুষেরা অত্যন্ত যন্ত্রনার বসবাস করছে। বিষয়টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ল্যান্ড বাউণ্ডারি এগ্রিমেণ্ট সংসদে পাশ হলেও তা এখনও সঠিক ভাবে কার্যকর না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে নিজ ভুমে পরবাসী হয়ে থাকতে হচ্ছে ভারতীয় নাগরিকদের।

একই সাথে তাঁর বক্তব্য দুটি দেশের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে ছিট মহল বিনিময় হয়েছে ঠিকই কিন্তু নব্য ভারতীয়রা এখনও নাগরিকত্ব পায়নি। অপর্ণা সেন, বোলান গঙ্গোপাধ্যায়দের দাবী ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১ টি বাংলাদেশী ছিটের নাগরিক জন্ম সূত্রে ভারতীয় নয়। তাঁরা নব্য ভারতীয়। তাই তাঁদের জন্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে বিশেষ নাগরিক পরিচয় পত্র দেবার নিয়ম রয়েছে। আধার কার্ড অথবা ভোঁটার কার্ড নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে তাঁদের কাছে যথেষ্ট নয়। বোলান গঙ্গোপাধ্যায় বলেন আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হলে এই নাগরিকদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে তাই এদের বিশেষ নাগরিক পরিচয় পত্র দেওয়া জরুরী।

ভারতের অভ্যন্তরে টুকরো বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টুকরো ভারতের অবস্থানের জটিল সমস্যা আজ আর নেই। চলতি কথায় এটাই ছিল ছিট। ২০১৫-র ৩১ জুলাই মধ্যরাতে “ইন্দিরা মুজিব চুক্তি” অনুযায়ী ছিট মহল বিনিময় হয়। তাই ছিট এখন অতীত। এই চুক্তির ফলে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১ টি বাংলাদেশী  ছিট ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১ টি ভারতীয় ছিট উভয় দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হয়। বাংলাদেশী ৫১ টি ছিটের প্রায় ১৫০০০ মানুষ এদেশের সাথে যুক্ত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১ টি ছিটের ৯৩০ জন মানুষ ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হতে এদেশে চলে আসেন। এরা সকলে ভারত রাষ্ট্রের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় বসবাস করেন।