ফিল্মি কায়দায় অপহৃত যুবককে উদ্ধার করল গাজোল থানার পুলিশ

51

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মালদাঃ একেবারে ফিল্মি কায়দায় অপহৃত যুবককে উদ্ধার করল গাজোল থানার পুলিশ। বিভিন্ন সূত্র ধরে অপহরণ কান্ডের কিনারা খুঁজে অপহৃত যুবক কে উদ্ধার করল গাজোল থানার পুলিশ। অভিযুক্তরা পলাতক থাকলেও তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে পুলিশের সাফল্যে খুশি অপহৃতের পরিবার। পুলিশ সূত্রে খবর উদ্ধার ওই যুবকের নাম বৈদ্যনাথ সরেন (১৭+)। বাড়ি গাজোল থানার আলাল গ্রাম পঞ্চায়েতের ফনাকাটা এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলাল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ফনাকাটা এলাকার বাসিন্দা নরেন সরেন গত সোমবার গাজোল থানায় তার ছেলের অপহরণের অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তিনি অভিযোগ করেন রবিবার তার ছেলেকে গাড়ি ভাড়ার জন্য ডেকে নিয়ে গিয়ে অপহরণ করেছেন এক ব্যক্তি। বিগত কয়েকদিন পূর্বে ওই ব্যক্তি তার বাড়ি আসে এবং গাড়ি ভাড়া বাবদ অগ্রিম ২০০ টাকা দিয়ে যান। রবিবার তার ছেলে ভুটভুটি ভ্যান নিয়ে গেলেও রাত পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফিরে আসেননি তার ছেলে, এমনকি ফোন করলেও ফোনের সুইচ অফ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর সোমবার গাজোল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে গাজোল থানার পুলিশ। এর পরেই মঙ্গলবার অপহৃত ওই যুবকের বাবার ফোনে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসলে অভিযোগকারী নগেন সরেন গাজোল থানায় জানান। এর পরেই তোড়জোড় খুঁজাখুঁজি শুরু করে গাজোল থানার পুলিশ। লাগানো হয় বিভিন্ন সূত্র। অপহৃত ওই যুবকের ফোন কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা বারংবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবী জানাতে থাকেন বলে জানা যাচ্ছে। এবং মুক্তিপণ দাবী করার পরেই ফোন সুইচ অফ করে দেওয়া হতো এমনটাই সূত্রের খবর। এরপর পুলিশ সেই ফোনের সূত্র ধরেই বিভিন্ন স্থানের সন্ধান পায়। তার মধ্যে বিশেষত বেশ কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করে সেই স্থানগুলি টার্গেট করে গাজোল থানার পুলিশ। অন্যদিকে অবশেষে ৪ লক্ষ টাকার মুক্তিপণ দিতে রাজি হয় অপহৃতের বাবা। দিন ঠিক হয় টাকা হস্তান্তর এবং অপহৃত যুবক কে মুক্তি দেওয়ার। সেটাকেই কাজে লাগায় গাজোল থানার পুলিশ।

গাজোল থানার আইসি রানবির কুমার বাগ, সাব-ইন্সপেক্টর কৌশিক কুমার দাস, এএসআই শুভেন্দু বিকাশ পতি এবং কায়ামুদ্দিন শেখের নেতৃত্বে ও রতুয়া থানার যৌথ উদ্যোগে বিশাল সাদা পোশাকের পুলিশবাহিনী  গতকাল সন্ধ্যায় রতুয়া থানার অন্তর্গত ভাদো এলাকায় অভিযান চালিয়ে নজরুল হক নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অপহৃত ওই যুবককে হাত-পা, মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশের এই স্পেশাল টিম। অন্যদিকে টাকা নিতে লুকোচুরি খেলছিল অভিযুক্তরা। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে গা ঢাকা অভিযুক্তরা। যদি অভিযুক্তদের খোঁজে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালায় পুলিশ। তাদের আটক করা সম্ভব না হলেও তাদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে। এরপর অপহৃত ওই যুবককে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় গাজোল থানায়। এটিন ওই যুবককে ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দির জন্য পাঠানো হয় জেলা আদালতে। ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুশি ওই যুবকের পরিবার।

এদিন ওই যুবক জানান, গাড়িতে আম লোড করার কথা জানিয়ে তারা আমাকে নিয়ে যায় ইটাহার। সেখানে মদের সাথে ঘুমের ওষুধের মিশ্রন খাইয়ে আমার হাত পা বেঁধে নিয়ে যায়। জ্ঞান ফিরে দেখি একটি অন্ধকার ঘরে আমাকে হাত পা বেঁধে ফেলে রেখেছে। মাঝেমধ্যে এসে খাবার দিচ্ছে, আর বাড়ির লোকের সাথে কথা বলাচ্ছে। আমাকে প্রচুর মারধর করা হয়েছে। ফোনে বলতে বলা হতো তাড়াতাড়ি টাকা যোগাড় করতে না হলে মেরে ফেলে দিবে। আমি তাদের কথা মতোই ফোনে সব জানাতাম।

এদিন ওই যুবককে ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দির জন্য পাঠানো হয় জেলা আদালতে। তার জবানবন্দির পর ওই যুবককে তুলে দেওয়া হবে তার পরিবারের হাতে। গাজোল থানার এই সাফল্যে খুশি তার পরিবার। পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।