হাত ধরল কাস্তে, মাঠ থেকে ফসল কি তুলতে পারবে কং-বাম

223

কলকাতা, ৩১ অক্টোবরঃ ক্ষমতা থেকে তৃণমূল ও বিজেপিকে হটানোর জন্য বিপ্লবের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত হল বাম-কংগ্রেসের। মোদ্দা কথা, সব মত পার্থক্য ঝেড়ে ফেলে এবার একসঙ্গে লড়াই করবে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। যাত্রাটা শুরু হচ্ছে আসন্ন তিন বিধানসভার উপনির্বাচনের জোটের মধ্য দিয়েই। বুধবার রাতে কলকাতার ক্রান্তি প্রেসে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করা হয় বাম-কংগ্রেসের তরফে।

এদিনের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। ওই বৈঠকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র জানিয়ে দেন, দুটি আসনে লড়বে কংগ্রেস। একটিতে লড়বে সিপিএম। খড়্গপুর ও কালিয়াগঞ্জে লড়বে কংগ্রেস। আর নদিয়ার করিমপুরে লড়বে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিএম প্রার্থী।

বিমান বসু জানান, তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস একযোগে লড়াই করবে। পাশে বসা সোমেন মিত্রও বলেন, “আর কোনও ছন্দপতন নেই। আমাদের পথ চলা শুরু হল। তৃণমূল ও বিজেপিকে হটানোর লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলা থামবে না।” বামেদের হাত ধরার ক্ষেত্রে কংগ্রেস সভানেত্রী সিলমোহর দিয়েছেন, তাও জানিয়ে দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিন আসনের উপনির্বাচনে ২-১’এ সমঝোতা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দু’দলই আলাদাভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন বিমান বসু ও সোমেন মিত্র। খড়গপুরে কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী চিত্তরঞ্জন মণ্ডল, কালিয়াগঞ্জে ধৃতশ্রী রায় এবং করিমপুরে সিপিএমের সম্ভাব্য প্রার্থী বাবুসোনা সরকার। সমঝোতা যখন হয়েছে, তখন দু’দলের যৌথ কর্মসূচিও হবে বলে ঘোষণা করা হয় এদিনের বৈঠকের পর। তিন উপনির্বাচনের আসনভিত্তিক একটি কো-অর্ডিনেশন কমিটি তৈরি হচ্ছে। পরে অন্যান্য বিধানসভা ও রাজ্যভিত্তিক হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিমানবাবু জানিয়েছেন,“বাম-কংগ্রেসের আলাদা প্রচার ও যৌথপ্রচার দু’টিই হবে। বামফ্রন্টের সভায় কংগ্রেসের প্রতিনিধি এসে বক্তব্য রাখবেন। আর কংগ্রেসের সভায় বাম প্রতিনিধি পাঠানো হবে। দ্রুত নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে।” শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচার নয়, এনআরসি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ছাঁটাই-সহ একাধিক ইস্যুতে দু’দল যৌথ আন্দোলনে নামছে বলে জানান বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান।

নাম না করে আবদুল মান্নানের প্রসঙ্গ টেনে সোমেন মিত্র বলেন, “কংগ্রেসের মধ্যে কেউ কোনও বিষয়ে মত দিতে পারেন। কিন্তু সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত, স্বৈরাচারী তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে বামফ্রন্টের সঙ্গে থাকবে কংগ্রেস।” তবে বিধানসভা উপনির্বাচনের পরে বাম—কংগ্রেসের সমঝোতা কতদূর বজায় থাকে, সেদিকেই এখন নজর।