হিন্দু মহাসভার নেতা কমলেশের খুনীদের মাথার দাম ১ কোটি টাকা দেওয়া ঘোষনা শিবসেনা নেতা

363

ওয়েব ডেস্ক, ২০অক্টোবর: হিন্দু মহাসভার নেতা কমলেশ তিওয়ারির খুনিদের মাথার দাম উঠল ১কোটি টাকা। শনিবার এই মর্মে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করলেন বিজেপির এক নেতা। ওই ঘোষণার কারণে রাজ্য রাজনীতিতে এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ইতিমধ্যেই তিওয়ারি খুনে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে লখনউ পুলিশ।

শনিবার এক ভিডিয়ো বার্তায় অরুণ পাঠক নামে শিবসেনার নেতা বলেন, ‘কমলশে তিওয়ারিকে যারা নৃশংস ভাবে খুন করল, আমি বিশ্বাস করি, তাদের বিচারে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত নয়। একই কায়দায় ওই খুনিদেরও ধড়-মাথা বিচ্ছিন্ন করে মারা উচিত। যে ব্যক্তি কমলেশের খুনিদের মাথা কাটতে পারবে, আমি তার পরিবারকে ১ কোটি টাকা দেব। আমি কমলেশ তিওয়ারি এই পুরস্কার ঘোষণা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দুদের পক্ষে কথা বলার জন্যই তিওয়ারিকে এমন নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটা হয়তো একটা বার্তাও, যাঁরা হিন্দুদের হয়ে কথা বলবে, তাঁদের এ ভাবে মেরে ফেলা হবে। ভারতে এটা আমরা হতে দিতে পারি না।’ কমলেশ তিওয়ারি খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে তিন জনকে এ দিন সকালে গুজরাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সুরাত ও আমদাবাদের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপরদিকে, এই ঘটনায় দুই মৌলবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর থেকে। গুজরাট থেকে যে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা হল, রশিদ আহমেদ পাঠান, ফৌজান পাঠান এবং মৌলবী মহসিন শেখ। পুলিশের অনুমান, এই রশিদই কমলেশ খুনের মূল চক্রী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কমলেশের বাড়িতে যে মিষ্টির বাক্স দুষ্কৃতীরা নিয়ে গিয়েছিল, সেই বাক্স কিনেছিল ফৈয়াজ। শুক্রবার দুপুরে লখনউয়ে খুরশিদ বাগে নিজের বাড়িতে খুন হন হিন্দু মহসভার প্রাক্তন নেতা কমলেশ। তাঁকে কুপিয়ে, গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। কমলেশের খুনের পর থেকেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে পুলিশ-প্রশাসনের উপর ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে। তদন্তের নেমে ঘটনার ৪৮ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নেপথ্যে বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, কমলেশকে ১৩ বার কোপানো হয়েছে। তাঁর ঘাড়ের কাছে অদ্ভুত একটা ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের অনুমান, কাউকে খুনের সময় জঙ্গিরা যে ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে, কমলেশের ঘাড়ে পাওয়া ক্ষতের সঙ্গে সেটার অনেকটাই মিল রয়েছে। কমলেশের মুখের ভিতরে গুলি করা হয়। সেই গুলি তাঁর পিঠ ফুঁড়ে বেরিয়ে যায় বলে মনে করা হচ্ছে।