জেএনইউতে তাণ্ডবের দায় স্বীকার করল ‘হিন্দু রক্ষা দল’, সঙ্গে দিল হুঁশিয়ারি

364

ওয়েব ডেস্ক, ৭ জানুয়ারিঃ মুখোশধারী কিছু লোক লাঠি, রড, পাথর ভাঙা বড় হাতুড়ি নিয়ে রবিবার বিকেল থেকে তিন ঘণ্টা সন্ত্রস্ত করে রাখল দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক মিলিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ব্যক্তিদের বয়ান অনুসারে হামলাকারীরা সংখ্যায় ছিল প্রায় ১০০ জন।এবার এই হামলার দায় স্বীকার করল হিন্দু রক্ষা দল নামে একটি অতি দক্ষিণপন্থী সংগঠন। সোমবার গভীর রাতে এক ভিডিয়ো প্রকাশ করে ঘটনার দায় তাদের বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।ভিডিয়োয় দাবি করা হয়েছে, দেশবিরোধী কাজে যারা যুক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে এভাবেই ব্যবস্থা নেবে তারা।

ভিডিয়োর বয়ান অনুসারে, ‘আমাদের দেশে থাকে, খায়। আমাদের দেশেই শিক্ষালাভ করে। দেশে থেকে দেশবিরোধী কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থাই নেবে হিন্দু রক্ষা দল। ঘটনার দায় আমরা নিচ্ছি। আমাদের ধর্মের বিরুদ্ধে বললে, দুর্ব্যবহার করলে আমরাও প্রাণ বাজি রাখতে রাজি।’

‘দীর্ঘদিন ধরে জেএনইউ কমিউনিস্টদের ঘাঁটি। এসব বরদাস্ত হবে না। ভবিষ্যতেও কোথাও দেশবিরোধী কাজ হলে আমরা এভাবেই তার জবাব দেব। দরকার হলে ফের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালাবে হিন্দু রক্ষা দল।’, বলা হয়েছে সেই ভিডিয়োয়।হামলাকারীদের নাম করে ভিডিয়োয় জানানো হয়েছে, ‘ভূপেন্দ্র তোমর, পিঙ্কি চৌধুরি-সহ হিন্দু রক্ষা দলের অন্যান্য সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছে।ভারত মায়ের জন্য যারা এসব করতে না পারবে তাদের ভারতে থাকার অধিকার নেই। দরকার হলে ভবিষ্যতে আবার আমরা হামলা চালাবো।’

রবিবার সন্ধে ৭টা নাগাদ জেএনইউ-র সবরমতী মহিলা হস্টেলে হামলা চালায় মুখে কাপড় বাঁধা একদল দুষ্কৃতী। ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় হস্টেলে।মারধর করা হয় পড়ুয়াদের।বাদ যাননি সেখানে হাজির শিক্ষকরাও। গুন্ডাদের মারে গুরুতর আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ঐশী ঘোষ। এইমসের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করতে হয় তাঁকে। ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। গোটা ঘটনার তদন্তভার দিল্লি পুলিসের ক্রাইম ব্রাঞ্চকে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।