লেখিকা
তৃপ্তি মিত্র

ডাঙর পুতুল

পুতুল নাচের উৎপত্তি কবে , কোথায় ও কিভাবে হয়েছে তার কোন সঠিক ইতিহাস এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি ৷ যদিও আবহমান কাল ধরে পুতুল নাচ বিনোদনের একটি অংশ ৷

ইউরোপে পুতুল নাচে সর্বপ্রচীন দেশ হল জার্মান ৷ এদের হাত ধরে একে একে রাশিয়া , জাপান , ব্রাজিল , ইটালি ,ফ্রান্স , মিশর , চীন , মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশে পুতুল নাচ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ৷

আনুমানিক ষোলশ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে ভারতবর্ষে পুতুল নাচ শুরু হয় ধারনা করা হয় ৷ জণশ্রুত কৃষ্ণনগরের বিপিন পাল পুতুল নাচের সূচনা করেন ৷

পুতুল নাচকে একটি টোটাল আর্ট ফর্ম বলা যেতে পারে ৷ যেখানে থাকে গল্প , কবিতা , অভিনয়, নাচ, গান , নাটক ,ভাষ্কর্য ৷ তাছাড়াও থাকে দৃশ্যমান আর্টের সার্থক রূপ ৷

পুতুল নাচের মাধ্যমে পৌরাণিক কাহিনী , পালাগান , নীতিকথা ,ধর্মকথা বা বাস্তব ঘটনাবলী তুলে ধরা হয় যা সমসাময়িক সমাজ ও মানুষকে সজাগ করে তোলে ৷

এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের পুতুলের প্রচলন আছে ৷ যেমন ঘাড় নড়া পুতুল, তারের পুতুল, বেণী পুতুল ,ও ডাং পুতুল ৷

ডাং পুতুল গুলি প্রায় মানুষের সমান উচ্চতা হয় । একটি বাঁশের মাথায় পুতুলটি বসিয়ে চরিত্র অনুসারে সাজানো হয় । পুতুল নাচিয়েরা বাঁশের টুকরো কোমরে বেঁধে পুতুলটি বসিয়ে নাচান । নাচিয়েদের কালো কাপড় দিয়ে আড়াল করে দেওয়া হয় । এইধরনের পুতুল নাচ ছোট্ট যাত্রা পালার রূপান্তর । যিনি অভিনয় করেন তিনি একাধারে পাঁচ , ছয়টি চরিত্রে অভিনয় করেন৷ তিনি এই পালার মাস্টার ম্যান । এই পালায় হারমোনিয়াম , ঢোল , বাঁশি ব্যবহার করা হয় ।

ডায়মন্ডহারবার , জয়নগর , মজিলপুর ও মেদেনীপুরের কিছু জায়গায় এখনও এই পুতুলের অভিনয় হয়ে থাকে যা ডাং পুতুল বা ডাঙের পুতুল নাচ বলে খ্যাত ।