যোগীরাজ্যের চাকরি খুইয়ে রাস্তায় বাটি হাতে, ভিক্ষা পথ বেঁছে নিলেন হোমগার্ডরা

489

ওয়েব ডেস্ক,২৫ অক্টোবরঃ পূজার মুখে উত্তরপ্রদেশে একসাথে কাজ খোয়ালেন ২৫ হাজার হোমগার্ড। রাজ্যের সমস্ত পুলিশ স্টেশন ও ট্রাফিক সিগন্যালের দায়িত্বে থাকা বহু সংখ্যক হোমগার্ডকে তাঁদের কর্ম থেকে বরখাস্ত করেছে যোগী সরকার। বিপাকে পরে গেছে প্রায় প্রচুর হোমগার্ড। এই অবস্থায় তাঁরা কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। এরপরই সরকারকে প্রতিবাদ জানাতে বেঁছে নিলেন এক অভিনব উদ্যোগ। সরকারের প্রতি নিজেদের ধিক্কারকে ব্যক্ত করলেন ভিখারি সেজে। এদিন ওই হোমগার্ডেরা বাটি হাতে নামলেন রাস্তায়। উর্দি পরে বাজারে নেমে ভিক্ষা করলেন তাঁরা। চোখের সামনে এই রকম দৃশ্য দেখে হতবাক সাধারন মানুষ।

যাঁদের অনেকেই চাকরি খোয়ানো সম্পর্কে অবহিতই ছিলেন না। যে হোমগার্ডরা একদিন নিজের এই পথেই ট্রাফিক সিগন্যাল সামলাতেন সেই হোমগার্ডেরাই আজ ভিক্ষার পথ বেঁচে নিতে বাধ্য হল। তাঁরা যখন তাঁদের বেদনার কথা মানুষের সামনে তুলে ধরলেন তখন তাঁদের কর্মক্ষেত্রের সেই করুন কাহিনি শুনে সমবেদনা জানান সাধারণ মানুষও।  

কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ২৫ হাজার হোমগার্ডকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হল। যদিও, ভবিষ্যতে কোনদিন যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তাঁদের কাজ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে, হোমগার্ডে চাকরির সুযোগ তাঁদের সামনে আর নেই ।

রাজ্য সরকারের একটি সূত্রে খবর, পুলিশের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের  মাইনেও বাড়ানো হবে। তার জেরে সরকারের খরচ একধাক্কায় অনেকখানি বেড়ে যায়। ফলে বিপাকে পড়া যোগী সরকার এই খরচের বোঝা কমানোর জন্যই একসাথে ২৫ হাজার হোমগার্ডকে বরখাস্ত করার প্রস্তাব দেয় ।

সরকারি এই সিদ্ধান্তের কারণে উত্তরপ্রদেশে নিযুক্ত মোট হোমগার্ডের সংখ্যা এক ধাক্কায় ৩২ শতাংশ কমে গেল মনে করছে রাজনৈতিক মহল। খরচ কমাতে গত ২৮ আগস্ট হোমগার্ডদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে সরকার। সেই মোতাবে এদিন বরখাস্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে কয়েক দিন আগে ধর্মঘটে শামিল হওয়ার জন্য তেলেঙ্গানা সরকার রাজ্য পরিবহণ নিগমের প্রায় ৪৮ হাজার কর্মীকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত রবিবার রাতেই ওই কর্মীদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় তেলেঙ্গানার কেসিআর সরকার। কারণ এই পরিবহন ধর্মঘটকে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও “ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ” বলে চিহ্নিত করেন৷ ফলে তা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতে দেখা যায়৷