যশ ঘূর্ণিঝড়ের কড়চা কৃষককুলের আতঙ্ক -মার খেতে পারে ধান ও আম সহ একাধিক ফসলের চাষ ও উৎপাদন

60

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনাঃ আসছে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ইয়াস -যেরকম খবর তাতে তা সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ সহ উত্তর চব্বিশ পরগণার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।গত বছর মে মাসের সুপার সাইক্লোন আম্ফানের ভয়াবহতাকে কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার আসতে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ, যা নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা রয়েছে তুঙ্গে। হাওয়া অফিসের সতর্কতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত রকম সতর্কতামূলক ব‍্যবস্থা নিতে শুরু করেছে জেলা তথা রাজ‍্য প্রশাসন।কিন্তু ঈশান কোনে সিঁদুরে মেঘ দেখে বড্ড আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন উত্তর চব্বিশ পরগনা শস্যভান্ডার বসিরহাট মহকুমার কৃষককুল। আয়ালা থেকে আমফান যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি মাশুল গুনতে হয়েছে উপকূলবর্তী মানুষকে যাদের এক বিরাট অংশই হলেন কৃষিজীবী। সুপার সাইক্লোনের মত ধ্বংসক্ষমতা ঘূর্ণিঝড়ের নাইবা থাকুক, ঘূর্ণিঝড়ের প্রাবল্য যে তাঁদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা শ্রমের ফসলকে ছারখার করে দিতে পারে ভেবে তাঁরা অন্তহীন দুশ্চিন্তায়।

করোনা আবহে লকডাউন সদ্য আমফানের ভয়াবহতাকে কাটিয়ে উঠে যখন চাষীরা আবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক  অবস্থায় ফিরছিলেন। ফের তখন গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো হাজির হয়েছে ইয়াশের ভ্রুকুটি। গতবছরের আম্ফনের ফলে বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর, বসিরহাট-১, বসিরহাট -২, বাদুড়িয়া, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, মিনাখাঁর মতো বিস্তীর্ন অঞ্চলের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার উপর দুবছর ধরে লকডাউনের ফলে এক বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কৃষকসমাজ, সেখানে আমফানের মতো হাওয়া দানব তাদের অর্থাভাবের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিতে কার্পণ্য করছে না। অতঃপর এবারও করোনা, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে প্রাণসংকটে থাকা ও ভয়ের উপত্যকায় বাস করা মানুষের খাদ্যভান্ডারে সংকট টান ধরাতে হাজির হচ্ছে ইয়াস।

সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গেছে -বিপুল ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি যেখানে ভারতের জাতীয় ফল আম,সেই আমেরও বিপুল পরিমাণে ক্ষতি হচ্ছে। যার ফলে ভীষণভাবে দুশ্চিন্তায় রয়েছে বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবনের চাষী সমাজ।

এক অসহায় চাষী জানালেন তার দুঃখের বারোমাস্যা – গেলবছর আম্ফান ঝড়ে বিপুল পরিমাণে ফসল নষ্ট হয়েছিল, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছিল রিক্ত নিঃস্ব হতে হয়েছিল।  ঝড় থেমে যাবার পর তাঁদের পৃথিবী স্বাভাবিক হয় নি।তাঁদের কাছে মহাজনের কাছ থেকে আবার ঋণ নিয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকার নাম জীবন।এ বছর আবার ইয়াশ নামে ঘূর্ণিঝড় আবির্ভাব হচ্ছে আর কৃষককূলে ছড়াচ্ছে  অতিরিক্ত ভয়ের বার্তা। যদিও সুপার সাইক্লোন আমফানের প্রাবল্য কোনোঅর্থেই ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সাথে তুলনীয় নয় তথাপি তাঁরা আশঙ্কায় যদি ঝড় নেমে আসে আরো বেগে।

এক আম চাষীর বক্তব্য, এবছর আমের ভালো কিন্তু করোনার কারণে গোটা রাজ্য লকডাউন চলছে গাছ থেকে আম পেরে বাজারে নিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এরপরে আসছে ইয়াস।

আর একজন পাটচাষী বললেন পাট খেতে লোনা জল ঢুকে সমস্ত পাট নষ্ট হয়ে যায়। সোনাদানা বন্ধক দিয়ে আবার নতুন করে চাষবাস শুরু করার পরে এ বছর আবার ইয়াশ নামে ভয়ানক ঘূর্ণিঝড় প্রবেশ করছে রাজ্যে পরিনাম যে কি ভেবে ডড়াচ্ছেন তাঁরা কৃষককূলে আনখসমুদ্দুর ভয়ের আবহ ঝড় আসছে, ঝড়।