কি ভাবে আপনার ভোটার কার্ড সংশোধন করবেন জেনেনিন

248

ওয়েব ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচন কমিশন নির্বাচকের তথ্য যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত নোটিশ জারি করেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবারের মধ্যে প্রত্যেক পরিবারের নিজস্ব মোবাইল থেকে নিজের ভোটার তালিকা আপডেট করাতে হবে। মনে রাখবেন, এই কাজ কোনো সরকারি অফিস আদালতের দায়িত্ব নয়, প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব দায়িত্ব। যারা নিজ নিজ দায়িত্বে এই কাজ করতে হবে। পদ্ধতি অনুসরণ করলে ডি ভোটারের তালিকা ভুক্ত হয়ে যেতে পারবেন।

ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা নির্ভুল করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ কর্মসূচি সূচনা ঘটিয়েছে বিগত ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে থেকে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে প্রতিটি নির্বাচক ন্যাশনাল ভোটার সার্ভিস পোর্টাল (এনভিএসপি.ইন) এ লগ-ইন করে নির্বাচক তালিকায় নিজের ও পরিবারের সকল ভোটারের নাম ও তালিকার সমস্থ এন্ট্রি যাচাই করে নেবেন। এজন্য নীচের প্রস্তুতি গুলি নিয়ে যে কোনো কম্পিউটারে বসে এই যাচাই এর কাজ করা যাবে।

কি কি করবেন-

১। পরিবারের সকল ভোটারের তথ্য যাচাই এর জন্য একটি মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা।

২। পরিবারের সকল ভোটারের এপিক বা সচিত্র পরিচয় পত্রের (ভোটার কার্ড) নম্বরটি সঙ্গে রাখা।

৩। যদি কোন সংশোধনী প্রয়োজন হয় তাহলে যে এন্ট্রিতে সংশোধন করতে হবে সেই সংক্রান্ত ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখা।

৪। আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেশন কার্ড, আইডেন্টিটি কার্ড এই ধরনের একটি ডকুমেন্ট এর ছবি (২ এমবি এর কম মাপের) পেন ড্রাইভে বা অন্য কোন ভাবে সফট কপিতে সঙ্গে রাখা।

৫। ছবিতে সংশোধন করার প্রয়োজন থাকলে ছবির সফট কপি (২ এমবি এর কম মাপের) সঙ্গে রাখা।

৬। যদি পরিবারে নতুন নাম তোলার যোগ্য (০১-০১- ২০১৯ তারিখে ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে) সদস্য থাকে সেক্ষেত্রে তার সমস্ত রকম ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখা।

 কম্পিউটারে যা করতে হবে-

 ১। www.nvsp.in  এ লগইন করতে হবে ও একটি ক্যাপচা দিতে হবে।

২। ফোন নম্বর দেওয়ার জায়গায় ফোন নম্বর দিতে হবে এবং ক্যাপচা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বক্সে লিখতে হবে।

৩। এরপর চেক করতে হবে নতুন রেজিস্ট্রেশন এর জন্য।

৪। ফোনে একটি ওটিপি আসবে। ওটিপি টা নির্দিষ্ট ঘরে দিতে হবে।

৫। এরপর পাসওয়ার্ড বসাতে হবে ও সেটাকে আর একবার বসিয়ে কনফার্ম করতে হবে। এভাবে রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে।

রেজিস্টার হয়ে যাওয়ার পর যা করতে হবে।

১। আবার nvsp.in এ লগ-ইন করতে হবে।

২। ইউজার আইডি হবে পূর্বে প্রদত্ত মোবাইল নং এবং পাসওয়ার্ড হবে যে পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে সেটাই।

৩। এরপরে ইভিপি ট্যাবে গেলে আবার ৪ টি ট্যাব পাওয়া যাবে।

  নিজস্ব তথ্য যাচাই

  পুলিং স্টেশন ফিডব্যাক

  পারিবারিক তথ্য ও যাচাই

  নথিভুক্ত না হওয়া সদস্যরা

৪। এর মধ্যে প্রথম ট্যাব অর্থাৎ  নিজস্ব তথ্য যাচাই এ গেলে ভোটারের তথ্য ও পাশে বিষদ তথ্য পাওয়া যাবে।

৫। এখানে ভোটার নিজের নাম ও ভোটার তালিকার বিশদ বিবরণ দেখতে পাবেন। বিবরণের নিচে দুটি অপশন দেওয়া থাকবে।

(ক) সব বিবরণ ঠিক আছে। (খ) সব বিবারণ ঠিক নেই।

ক। যদি সব বিবারণ ঠিক থাকে-

তবে নিম্নলিখিত নথিপত্রের একটি কে স্ক্যান করে আপলোড (সর্বোচ্চ ২ এমবি) করতে হবে।

পাসপোট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, সরকারি অথবা আধা-সরকারি পরিচয় পত্র, ব্যাংকের পাস বই, কৃষক পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড, এনপিআর এর স্মার্ট কার্ড, সাম্প্রতিক জল, টেলিফোন, বিদ্যুত, গ্যাস কানেকশন, এর বিল, (যেখানে ওই  ভোটারের ঠিকানা দেওয়া আছে) ইছিএল  দ্বারা অনুমোদিত অন্যান্য নথিপত্র।

কি ধরনের ডকুমেন্ট সেটা পাশের ড্রপ ডাউন লিস্ট থেকে সিলেক্ট করতে হবে ও সবশেষে তার নাম্বর পাশের বক্সে দিতে হবে এবং সাবমিট করতে হবে।

খ। যদি সব বিবরণ ঠিক না থাকে-

 ১.তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ত্রুটি আছে, সেই চেক বক্স গুলিকে সিলেক্ট করতে হবে।

 ২.চেকবক্স অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফিল্ডগুলোতে এন্ট্রি করা যাবে (বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায়) বাংলায় এন্ট্র্রি করার ক্ষেত্রে ডানদিকে কিবোর্ডের আর বটন রয়েছে।

৩. ত্রুটি সংশোধনের ফিল্ড পূরণের সাথে সাথে সেই সংক্রান্ত একটি নথি আপলোড করতে হবে (সর্বোচ্চ ২ এমবি) এবং কোন নথি আপলোড করা হলো তা ডানদিকের ড্রপডাউন লিস্ট থেকে সিলেক্ট করতে হবে।

৪.সবশেষে সাবমিট করলে একটি ফরম নাম্বর দিয়ে ফর্ম আট নিজে নিজেই তৈরি হবে যা দেখে নিয়ে আবার সাবমিট করতে হবে।

পরিবারের লোকজনের নাম যাচাই এর জন্য যা করতে হবে-

১। এনভিএসপি পোর্টাল ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করতে হবে।

২। এবার ইভিপি ট্যাবে গিয়ে সেখানে পারিবারিক তথ্য ও যাচাইয়ে এবং সেখান থেকে প্রথম ট্যাবে অর্থাৎ পারিবারিক তথ্য ট্যাবে যেতে হবে।

৩। এবার নিজের নাম ও ভোটার লিস্টে তার পাঠ ও সিরিয়াল নাম্বার দেখা যাবে, পাশের পরিবারের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করুণ অপশনে ক্লিক করতে হবে যাতে  নিজেকে ওই পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে যুক্ত করা যায়। ড্রপ ডাউন বক্সে কি রকম সম্পর্ক হবে নিজে এবং সদস্য যোগ করুণ এ ক্লিক করতে হবে।

৪। এবার যে ব্যক্তি কে পরিবারে যুক্ত করবেন তার ভোটার কার্ডে নাম্বার নির্দিষ্ট বক্সে দিতে হবে এবং পরিবারের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করুণ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এবার ড্রপ ডাউন বক্সে সেই ব্যক্তির সাথে নিজের কি রকম সম্পর্ক সিলেক্ট করতে হবে। (বাবা, মা, স্ত্রী, স্বামী, ইত্যাদি)

৫। এবার নিচে আপনার সঙ্গে থাকেন এবং আপনার সঙ্গে থাকেন না এর মধ্যে যেটি প্রযোজ্য সেটিকে সিলেক্ট করতে হবে।

আপনার সঙ্গে থাকেন না করলে স্থানান্তরিত) ও মৃত) দুইটি অপসন পাওয়া যাবে এর মধ্যে যে টি প্রযোজ্য সেটিকে সিলেক্ট করতে হবে।

৬। এবার নিচে অ্যাড মেম্বার-এ সিলেক্ট করতে হবে, তখন ওই ব্যক্তির নাম পরিবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

৭। পরিবারের সকলের নাম লিস্টে যুক্ত হয়ে যাবার পরে নিচে ‘আপনি কি সব সদস্যদের পরিবারে যুক্ত করেছেন’ এর  ‘হ্যাঁ’ অপশন টি সিলেক্ট করে সাবমিট করলে পরিবারের তালিকা লক হয়ে যাবে, আর কোন নাম পরিবারে যুক্ত করা যাবে না।

৮। এবার পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম যাচাই ট্যাবে গিয়ে (১ ও ২ নং পয়েন্ট দেখুন) তারপর দ্বিতীয় ট্যাবে অর্থাত্ পরিবার যাচাই সিলেক্ট করতে হবে।

৯। এখানে পরিবারের সদস্যদের নাম ও তার পাশে নীলরঙের View Details এ গেলে ওই সদস্যদের নির্বাচনী তথ্য দেখতে পওয়া যাবে, যে ভাবে আপনি নিজের তথ্য দেখতে পেয়েছিলেন।

১০। এরপর প্রতিটি সদস্যের তথ্য যাচাই করবেন (যেভাবে নিজের তথ্য যাচাই করেছিলেন, একই ভাবে)।

১১। তথ্য যাচাই হলে View Details এর বাটনের রং নীল থেকে সবুজ হয়ে যাবে।

* EVP এর মধ্যে পোলিং স্টেশন ফিডব্যাক নামে নীল রঙের ট্যাবে গেলে আপনার ভোট কেন্দ্রের সম্পর্কে ৬ টি তথ্য হ্যাঁ বা না লিখে আপনি সাবমিট করতে পারবেন।

** যদি আপনার পরিবারে  কোনো নথিভুক্ত না করা ১৬ বা তার বেশি বয়সের সদস্য থাকে তবে Unenrolled Members ট্যাবে সিলেক্ট করলে প্রথমে সেই ব্যক্তির জন্ম তারিখ দিতে হবে, তারপরে সম্পূর্ণ তথ্য পরপর দেওয়া যাবে।

ওই ব্যক্তির বয়স ১ লা জানুয়ারী ২০১৯ এ যদি ১৮ এর বেশি হয় তবে নাম লেখার পরে নির্দেশ অনুযায়ী পর পর সকল তথ্য দিলে একটি ফর্ম-৬ তৈরি হয়ে যাবে ও ERO এর কাছে সেই তথ্য চলে যাবে।