‘কত মায়ের দুধ খেয়েছে? দেবু টুডুকে তাড়াক’, বিজেপি কর্মী ও নেতাদের তীব্র আক্রমন

175

ওয়েব ডেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারিঃ  ১০০ দিনের প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে বিপাকে তৃণমূল নেতা দেবু টুডু। পূর্ব বর্ধমানে দলীয় এক সভায় তিনি ঝাঁটা মেরে বিজেপি কর্মী ও যারা নিজেপি করবে তাঁদের গ্রাম থেকে তাড়ানোর নিদান দেন। জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর তথা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডুর কুকথাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধীরা। কুকথাই যেন রাজনৈতিক মহলে ট্র্যাডিশন হয়ে গিয়েছে বলেই দাবি অধিকাংশের। বর্ধমান ১ নং ব্লচকে এনআরসি বিরোধী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঠিক এভাষাতেই বিজেপির বিরুদ্ধে আকক্রমন জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর দেবু টুডুর। এদিনের সভায় হাজির ছিলেন, বর্ধমান ১নং ব্লক সভানেত্রী কাকলি গুপ্ত, জেলা পরিষদ সদস্য গার্গী নাহা সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

এদিনের সভায় দেবু টুডু বলেন, ”রাষ্ট্র জুড়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদীর সরকার। এনআরসি চালু করে আসামে ১৯ লক্ষ মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হয়েছে। যার মধ্যে ১২ লক্ষ হিন্দু। অথচ এই পার্টি বলছে তারা হিন্দুদের পার্টি। তাদের তাড়ানো হচ্ছে যারা বাংলার হিন্দু। তাই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গোটা দেশ জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনের পথ দেখাচ্ছেন তিনি।” তিনি আরও বলেন, আমি নিজে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসাবে পাঁচ বছর কাটিয়েছেন। সরকার বলছে তাঁরা নাকি এই দেশের আদিম জাতি। আর তাঁকেই এখন বাবা-মার জন্মস্থান কোথায় সেটা জানাতে হবে?

আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই তিনি এদিন বলেন, কত মায়ের দুধ খেয়েছে? দেবু টুডুকে তাড়াক। এদিন তিনি বলেন, ২০২০-২০২১ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে ১০০ দিনের প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ ১৩ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এর ফলে, যাঁরা ১০০ দিনের কাজ করে নিজেকে দাঁড় করিয়েছিলেন ফের তাঁরা কাজ হারাবেন। শুধু যে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক দিনমজুররা কাজ হারাবেন তা নয়, এর ফলে কাজ হারাবেন বিজেপি সমর্থকরাও।”

তিনি আরও বলেন, ”মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রাজত্বে সবারই গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। নিজের নিজের মত করে রাজনীতি করার। কিন্তু যে বিজেপি সরকার ১০০ দিনের কাজের টাকা বরাদ্দ কমিয়ে গরীবের পেটে লাথি মারছে। এরপরও কেউ যদি বিজেপি বিজেপি করে, তাহলে ঝাঁটা মেরে তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। বাংলার মানুষ তাঁদের তাড়িয়ে দেবে।”

বরাদ্দ কমানোর কারণ হিসেবে তৃণমূল নেতার দাবি, ১০০ দিনের কাজে গত পাঁচ বছর ধরে প্রথম পশ্চিমবঙ্গ। বর্ধমান জেলাও সেরা। তাই বিজেপির যন্ত্রণা হওয়ায় বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার অর্থ মানুষকে আর কাজ দেওয়া যাবে না। দেবু টুডু বলেন, “তাহলে বলুন গরিব খেটে খাওয়া মানুষ যাঁদের ১০০ দিনের কাজের উপর নির্ভর করে সংসার চলে, তাঁদের কীভাবে চলবে? পঞ্চায়েতের মাধ্যমে এই কাজ করে অর্থনীতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মানুষকে ধারদেনা করতে হয় না। সেই কাজ বিজেপি বন্ধ করে দিচ্ছে। তাই বলছি যারা বিজেপি, বিজেপি করবে এভাবে মানুষের উপর অত্যাচার করছে। তাদের ওষুধ দেওয়া হবে।” তৃণমূল নেতার কুকথা প্রসঙ্গে যদিও জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দীর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।