পরকীয়ায় প্রতিবাদ করার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

272

বিশ্বজিৎ মন্ডল, মালদাঃ নিজের স্ত্রী, সন্তান থাকার পরও এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক স্বামীর। প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে ফাঁসিতে ঝোলানোর অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃত ওই গৃহবধূর নাম সামি আক্তারি (২৫)। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল মহকুমার চাঁচল-‌১ গ্রাম পঞ্চায়েতের থাঘাটি গ্রামে। ওই ঘটনার পরে অভিযুক্ত স্বামী সানিউল আলিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, মৃত বধূর সামি আক্তারির বিয়ে হয় চাঁচল থানার চাঁচল-‌১ গ্রাম পঞ্চায়েতের থাঘাটি গ্রামে সানিউল আলি সাথে। সে পেশায় চাষি। বছর সাতেক আগে তাঁদের সামাজিক মতে বিয়ে হয়। তাঁদের ৩ বছরের একমাত্র পুত্রসন্তানের নাম আবতাব আলি। জানা গেছে, সোমবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখা যায়। গলায় তাঁর ওর্ণা জড়ানো ছিল।

যদিও মৃতার পরিবারের লোকেরা খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখেন, তাঁদের মেয়েকে বাড়ির উঠোনে ফেলে রাখা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয় মালদা মেডিক্যালের মর্গে। ঘটনার পরই স্বামী সানিউল ও শাশুড়ি গুণিয়ার বেওয়ার নামে চাঁচল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার বাবা কলিমুদ্দিন শেখ।

মৃতার ভাই সুমসিল আলি অভিযোগ করে বলেন,‘‌জামাইবাবু দীর্ঘদিন ধরে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত। মাঝে মধ্যেই ফোনে তাদের মধ্যে কথা হয়। এই নিয়ে দিদি কিছু বলতে গেলেই তাঁকে মারধর করা হত। সপ্তাহ খানেক আগে দিদি তাদের ধরে ফেলে। এই নিয়ে অশান্তি চরমে ওঠে। দিদি প্রতিবাদ করায় ব্যাপক মারধর করা হয় তাঁকে।’‌

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,‘‌দিন চারেক আগে অশান্তি চরমে উঠলে দুই পরিবার বসা হয়। তাতে ঠিক করা হয়, সোমবার সালিশিসভা ডাকা হয়েছিল। আমরা সেদিন দিদিকে বুঝিয়ে শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসি। এরই মধ্যে খুন করে ফেলে দিদিকে। ওরাই আমাদের দিদিকে মেরে ফেলেছে। দিদির গোটা শরীরে চোট রয়েছে।’‌ অভিযোগ পাওয়ার পর পরই চাঁচল থানার পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী সানিউলকে গ্রেপ্তার করেছে।