ইট খেলে পাটকেল ছুঁড়ব, এই শিক্ষা আমাদের মধ্যে নেইঃ কটাক্ষ রাজ্যপালের

76

ওয়েব ডেস্ক, ৩০ ডিসেম্বরঃ সোশ্যাল মিডিয়া মারফত রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে কড়া চিঠি দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে চিঠি দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই চিঠি ট্যুইটও করেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীর ট্যুইট-এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা ট্যুইট করেন রাজ্যপাল। ট্যুইট-এ বুঝিয়ে দেন চিঠিতে সন্তুষ্ট নন তিনি।

যে চিঠির প্রথমেই পার্থ লিখেছেন, ‘‌আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিঠি প্রকাশ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু জানতে চেয়েছেন। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার মারফতই আপনাকে চিঠি দেওয়া’‌। বর্ষশেষের শুভেচ্ছা-সহ পার্থ লিখেছেন,’২৫ ডিসেম্বর আপনি মুখ্যমন্ত্রীকে যে চিঠি লিখেছেন, তার প্রেক্ষিতে বিষয়গুলি সম্পর্কে আপনাকে জানাতে মুখ্যমন্ত্রী আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। বিষয়গুলি হল, রাজ্য সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অনুষ্ঠান বাতিল এবং ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা।

আপনাকে অবগত করা হয়েছে, যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে সেসব অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ স্থির করা, অনুষ্ঠানসূচি তৈরি করা এবং তা বাতিল করা—সবটাই হয়েছে রাজ্যপালের তৈরি করা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালে তৈরি নিয়মকানুনকে ভিত্তি মেনে রাজ্য সরকার তাদের কাজকর্মে ও দায়িত্বপালনে হস্তক্ষেপ প্রায় করেই না’।

শুধু তাই নয় সেই চিঠিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এনআরসি ও সিএএ বিরোধিতা ও প্রত্যাহার চেয়ে আন্দোলন করছেন। শুধু যাদবপুর নয়, সমগ্র রাজ্যবাসী চায় সিএএ এবং এনআরসি প্রত্যাহার করা হোক। চিঠিতে এমনই লিখে রাজ্যপালকে উত্তর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

এরপরই শিক্ষামন্ত্রীর এই কাজের সমালোচনা করে গোটা পোস্টটি রিটুইট করেন রাজ্যপাল। তিনি লেখেন, “ঢিল মারলে পাটকেল ছোঁড়ার সময় এটা নয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, আমরা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করব। শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি ভাল করে খোঁজখবর নিয়ে নিতে পারেন।” তাতে পালটা কটাক্ষ করেছেন শিক্ষামন্ত্রীও। লিখেছেন, “ইট খেলে পাটকেল ছুঁড়ব, এই শিক্ষা আমাদের মধ্যে নেই। যে শিক্ষা আছে, তাতে জানি অসত্য বললে সত্য তথ্য মানুষকে জানানোর অধিকার আমাদের আছে। সেই কারণেই এই টুইট। তিনি যেমন সময় দেবেন, সেই অনুযায়ী আলোচনা হবে।”

এনিয়ে রাজ্যপাল-শিক্ষামন্ত্রীর টুইটযুদ্ধে বেশ সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার জেরে সেখানে আচার্য তথা রাজ্যপাল উপস্থিত থাকতে না পারার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আগামী ১৩ জানুয়ারি ডেকে পাঠিয়েছেন রাজ্যপাল।

পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকেও আলোচনা করতে চেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনমতো আলোচনার জন্য  সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। চিঠির উত্তরে তা তিনি রাজ্যপালকেও জানান। মাত্র একদিনের মধ্যে চিঠির উত্তর পেয়ে আপ্লুত রাজ্যপাল টুইটারে সেটি পোস্টও করে দেন।