হংকং-এ লাগাতার অশান্তি,গোল্ডেন ভিসাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশে পালানোর কথা ভাবছেন প্রভাবশালীরা

215

ওয়েব ডেস্ক,৪ অক্টোম্বরঃ এ যেন এক বিদেশী এনআরসি, অপরাধের দোহাই দিয়ে হংকং থেকে চিনের মূল খণ্ডে নিয়ে আসা। এরকমই এক বিস্মিত বিল পাশকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস থেকেই চিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করেছে হংকং। সেই বিক্ষোভের জেরে অশান্তির আকার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে দ্বীপ শহর ছেড়ে পালিয়ে যাবার সুযোগ খুঁজছেন অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। সেই সুযোগকে হাতিয়ার করে বিভিন্ন দেশ সেইসব ব্যক্তিদের গোল্ডেন ভিসার অফার দিয়েছে।

বিভিন্ন দেশেই সেই সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এই প্রস্তাব দিচ্ছেও, তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সেই সমস্ত ব্যক্তি যদি ওই দেশের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে, তাহলে তাঁদের নাগরিকত্ব দেবে সেই দেশ। এই প্রস্তাব শোনার পর অনেকেই এই গোল্ডেন ভিসার অফার নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে সম্পত্তি বিমা করানোর কথাও ভাবছেন সেই সমস্ত ব্যক্তিরা। কারণ হিসাবে তাঁরা তুলে ধরেছেন আন্দোলনের ফলে নাকি তাঁদের অনেক সম্পত্তিরও ক্ষতি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে চিন সরকার হংকং নিয়ে একটি বিল তুলে আনে। সেই বিলে বলা হয়, হংকং-এ কেউ অপরাধ করে ধরা পড়লে তাকে বন্দি করে চিনের মূল ভূখণ্ডে পাঠানো যাবে। এই বিল উঠে আসতেই হংকংবাসীদের মনে আতঙ্ক দানা বাঁধে। তাঁদের ধারণা, ওই বিল যদি আইনে পরিণত হয় তাহলে চিন এই দ্বীপ শহরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে শুরু করবে। এরপরেই এই বিল প্রত্যাহারের দাবীতে শুরু হয় আন্দোলন। তবে চিন বিলটি প্রত্যাহার করেছে ঠিকই কিন্তু থামেনি আন্দোলন। এই অবস্থার মধ্যে দাড়িয়ে এই দ্বীপ শহর ছেড়ে পালাতে চাইছেন সেখানকার প্রভাবশালী বাসিন্দারা।

এবিষয়ে তাদের এই অফার দিয়েছে বিভিন্ন ক্যারাবিয়ান দেশ গুলি। শুধু ক্যারাবিয়ান দেশই নয় অফার করেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। তবে এই দুটি দ্বীপপুঞ্জেই যেতে চেয়েছেন বেশি সংখ্যক ধনী হংকংবাসী। অ্যান্টিগুয়া ও বারদুদার প্রস্তাব দিয়েছে, হংকংবাসীরা যদি ১ লক্ষ ডলার বিনিয়োগ করে তাহলে তাঁরা নাগরিকত্ব দেবে। এর পাশাপাশি সাইপ্রাস প্রস্তাব দিয়েছে, তাদের দেশে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে হবে ২০ লক্ষ ইউরো, তবেই মিলবে নাগরিকত্ব। হংকং-এর জন হু মাইগ্রেশন কনসালটিং সূত্রে জানা গেছে, জুনের পর থেকে গোল্ডেন ভিসা বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে চারগুণ ।

এবিষয়ে সংস্থার প্রধান জন হু বলেন, বিক্ষোভ দিন দিন আরও হিংসাত্মক আকার নিচ্ছে। সরকার কোনভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। এই অবস্থায় গোল্ডেন ভিসার চাহিদা বেড়েছে বলেই মনে করছি আমরা।