লকডাউন পরিস্থিতে, মালদার মোহাদিপুর সীমান্ত দিয়ে কার্যত বন্ধ বাংলাদেশি মানুষদের যাতায়াত

21

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মালদাঃ লকডাউন পরিস্থিতিতে, ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর মালদার মোহাদিপুর সীমান্ত দিয়ে কার্যত বন্ধ বাংলাদেশি মানুষদের যাতায়াত। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসা করাতে আসা বহু বাংলাদেশি মানুষ আটকে রয়েছেন এখনো। কেবলমাত্র বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি পত্র মিললেই দেশে ফিরতে পারছেন আটকে থাকা মানুষজন। মালদার মহদীপুর সীমান্তে তাদের কষ্ট এবং সমস্যার কথা আমাদের জানিয়েছেন, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মানুষ জন।

বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। বেশ কিছুদিন আগে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। চিকিৎসা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সরকারি নিয়মের বেড়াজালে আটকে যান তিনি। দীর্ঘদিন বাড়ি ফিরতে পারেননি। নানা বিধ আর্থিক ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি পাওয়ায়, এবারে ঘরে ফিরবেন নাসির উদ্দিন। জানালেন তার মতো বহু মানুষ এখনও বাংলাদেশ আটকে রয়েছেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে তারা এদেশে আসতে পারছেন না।

অন্য একজনের সঙ্গে কথা হলো। বাংলাদেশের ঠাকুরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা  মোহাম্মদ মানিক রতন। কুড়ি দিন আগে ভারতের শেষ হয়েছে চিকিৎসার কাজ। দীর্ঘদিন থেকেই সুস্থ রোগী। তাও লকডাউনে সীমান্ত বন্ধ থাকায় বাড়ি ফিরতে পারছেন না। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা মোকাবিলা পর। অবশেষে বাংলাদেশ সরকারের ছাড়পত্র পাওয়ায় ফিরে যাবেন বাড়িতে।

মালদা জেলায় যখন করোনার সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তখন তা রোধে সরকারের তরফে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মালদার এই স্থলবন্দর দিয়ে সরকারের বিশেষ অনুমতি পত্র না থাকলে মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে যেমন ভিন দেশ থেকে আসা সংক্রমণ কিছুটা রোধ করা গেছে। কিন্তু অন্যদিকে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে মানুষ আসতে না পারায় তারা যেমন সমস্যায় পড়েছেন। উল্টোদিকে মানুষজন না আসায় চরম হতাশা এবং দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সীমান্ত সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা। দেশ এবং তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও সংক্রমনের ভয়ে সরকারি এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা।